بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যিনি তোমাদেরকে একজন মানুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর ঐ জোড়া থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অগণিত পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের নিকট প্রার্থনা করে থাক এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক।
আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে তাদের মালামাল বুঝিয়ে দাও এবং তোমাদের নিকৃষ্ট বস্ত্তকে তাদের উৎকৃষ্ট বস্ত্ত দ্বারা বদল করো না। আর তোমাদের মালের সাথে তাদের মাল ভক্ষণ করো না। নিশ্চয়ই এটি গুরুতর পাপ।
আর যদি তোমরা (পালিতা) ইয়াতীম মেয়েদের (বিয়ে করে তাদের) প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বলে আশংকা কর, তাহ’লে অন্য মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা ভাল মনে কর দুই, তিন বা চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পার। কিন্তু যদি তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশংকা কর, তাহ’লে মাত্র একটি বিয়ে কর অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী। এটাই অবিচার না করার অধিক নিকটবর্তী।
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা প্রদান কর ফরয হিসাবে। তবে যদি তারা তা থেকে খুশী মনে তোমাদের কিছু দিয়ে দেয়, তাহ’লে তোমরা তা সন্তুষ্টচিত্তে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।
আর যে ধন-সম্পদকে আল্লাহ তোমাদের জীবিকার অবলম্বন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন, তা নির্বোধদের হাতে সমর্পণ করো না। বরং তা থেকে তাদের ভরণ-পোষণ কর ও তাদের সাথে ন্যায় সঙ্গত কথা বল।
আর ইয়াতীমদের যোগ্যতা যাচাই কর বিয়ের বয়সে না পৌঁছা পর্যন্ত। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিবেচনা শক্তি বুঝতে পার, তাহ’লে তাদের সম্পদ তাদের নিকট ফিরিয়ে দাও। তারা বড় হয়ে যাচ্ছে ভেবে তোমরা তাদের সম্পদ থেকে বাহুল্য খরচ করো না বা সেগুলি দ্রুত খেয়ে ফেলো না। যারা সচ্ছল, তারা ইয়াতীমের সম্পদ খরচ করা হ’তে বিরত থাকবে। আর যারা অভাবী, তারা তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ ভক্ষণ করবে। অতঃপর যখন তোমরা তাদের হাতে তাদের সম্পদ অর্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। বস্ত্তত হিসাব গ্রহণকারী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের সম্পত্তিতে নারীদের অংশ রয়েছে কম হৌক বা বেশী হৌক। এ অংশ সুনির্ধারিত।
সম্পদ বণ্টনের সময় যখন আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও অভাবীরা হাযির হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু খাদ্য দান কর এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বল।
আর তাদের (অছিয়তের ব্যাপারে) ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে অসহায় সন্তানদের রেখে যায় যাদের ব্যাপারে তারা শংকিত থাকে। অতএব তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে ও ন্যায় সঙ্গত কথা বলে।
যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করে, তারা তাদের পেটে কেবল আগুনই ভক্ষণ করে। আর সত্বর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তাহ’লে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি কেবল একজনই কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার প্রত্যেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ করে পাবে, যদি মৃতের কোন সন্তান থাকে। আর যদি না থাকে এবং কেবল পিতা-মাতাই ওয়ারিছ হয়, তাহ’লে মা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ’লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী, তা তোমরা জানো না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তোমরা অর্ধেক পাবে, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তোমরা সিকি পাবে, তাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীরা সিকি পাবে, যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তারা অষ্টমাংশ পাবে, তোমাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি পিতা ও সন্তানহীন কোন (কালালাহ) পুরুষ বা স্ত্রী মারা যায় এবং তার একজন ভাই অথবা বোন থাকে, তবে তারা প্রত্যেকে এক ষষ্ঠাংশ করে পাবে। আর যদি তারা একাধিক হয়, তাহ’লে তারা সকলে এক তৃতীয়াংশে শরীক হবে, অছিয়ত পূরণ অথবা ঋণ পরিশোধের পর, কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সহনশীল।
এগুলি হ’ল আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদী সমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই হ’ল মহা সফলতা।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা সমূহ লংঘন করবে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হ’তে চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তাহ’লে তাদেরকে মৃত্যু অবধি গৃহবন্দী করে রাখ। অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন রাস্তা বাৎলে দেন।
আর তোমাদের মধ্যে যদি কোন দু’ব্যক্তি কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাহ’লে তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি তারা তওবা করে ও সংশোধিত হয়, তাহ’লে তাদের থেকে ফিরে এসো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও দয়াবান।
আল্লাহ তওবা কবুল করেন কেবল ঐসব ব্যক্তিদের যারা অজ্ঞতাবশে মন্দ কর্ম করে। অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করে থাকেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর ঐসব লোকদের কোন তওবা নেই, যারা মন্দকর্ম করতেই থাকে, যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং বলে যে, আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা কবুল হয় না ঐসব লোকের, যারা মৃত্যুবরণ করে কাফের অবস্থায়। আমরা তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর হালাল নয় যে, তোমরা জোর পূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী বনে যাও। আর তোমরা তাদেরকে (মোহরানা ও অন্যান্য সম্পদ) যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেওয়ার (কপট) উদ্দেশ্যে (স্বামীদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে অন্যত্র বিয়ে করতে বাধা দিয়ো না। অবশ্য যদি তারা প্রকাশ্যে কোন অশ্লীল কাজ করে (তবে সেকথা স্বতন্ত্র)। তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। যদি তোমরা তাদের অপসন্দ কর, (তবে হ’তে পারে) তোমরা এমন বস্ত্তকে অপসন্দ করছ, যার মধ্যে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন।
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে চাও এবং তাদের কাউকে অঢেল সম্পদ দিয়ে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরৎ নিয়ো না। তোমরা কি অপবাদ দিয়ে ও প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে সেটা গ্রহণ করবে?
তোমরা কিভাবে তা নিতে পার, অথচ তোমরা একে অপরের প্রতি উপগত হয়েছ এবং তারা তোমাদের নিকট থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছে?
যে নারীকে তোমাদের পিতা বা দাদা বিয়ে করেছেন, তাদেরকে তোমরা বিয়ে করো না। তবে যে রীতি বিগত হয়ে গেছে, তা স্বতন্ত্র। এটা অশ্লীল ও ক্রোধের কাজ এবং নিকৃষ্টতম পন্থা।
তোমাদের জন্য হারাম করা হ’ল- তোমাদের মা, মেয়ে, ফুফু, খালা, ভাতিজী, ভাগিনেয়ী, দুধ-মা, দুধ-বোন, শাশুড়ী, সহবাসকৃত স্ত্রীদের (অন্য স্বামীর) কন্যা, যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি ঐ স্ত্রীদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে (ঐ মেয়েদের সাথে বিবাহে) তোমাদের কোন দোষ নেই। আর তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ (করা হারাম)। তবে যা অতীত হয়ে গেছে, তা স্বতন্ত্র। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর (তোমাদের জন্য হারাম হ’ল) সকল সধবা নারী। তবে তোমাদের মালিকানাধীন ক্রীতদাসী (ও যুদ্ধবন্দিনী) ব্যতীত। এটি তোমাদের জন্য আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেছেন। এদের ব্যতীত তোমাদের জন্য সকল নারী হালাল করা হয়েছে এই শর্তে যে, তোমরা তাদেরকে সম্পদের বিনিময়ে কামনা করবে বিবাহের উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার ফরয মোহরানা প্রদান কর। আর তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি মোহর নির্ধারণের পর (তাতে কমবেশী করায়) তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীনা মুমিন নারীকে বিবাহের সামর্থ্য রাখেনা, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার যুবতী দাসীকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। তোমরা একে অপর থেকে উদ্ভূত। অতএব তোমরা তাদের পরিবারের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর এবং তাদেরকে সঙ্গতভাবে মোহরানা প্রদান কর এ জন্য যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং ব্যভিচারিণী হবে না বা কাউকে উপপতি হিসাবে গ্রহণ করবেনা। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যাবে, তখন যদি তারা কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদের উপর স্বাধীনা নারীদের অর্ধেক শাস্তি বর্তাবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, যারা তোমাদের মধ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করে। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তবে সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম হবে। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আল্লাহ তোমাদের জন্য (হালাল-হারাম) ব্যাখ্যা করে দিতে চান এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের (সুন্দর) রীতি সমূহের প্রতি তোমাদের পথ প্রদর্শন করতে চান ও তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর আল্লাহ চান তোমাদের তওবা কবুল করতে। কিন্তু যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় যে, তোমরা চরমভাবে পথচ্যুত হও।
আল্লাহ তোমাদের উপর বিধান লঘু করতে চান। (কেননা) মানুষ দুর্বল রূপে সৃষ্ট হয়েছে।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করোনা পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত। আর তোমরা আত্মঘাতী হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াশীল।
যে কেউ সীমালংঘন ও যুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে শীঘ্রই আমরা জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। আর সেটা আল্লাহ্র জন্য খুবই সহজ।
যদি তোমরা কবীরা গোনাহসমূহ হ’তে বিরত থাক, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহ’লে আমরা তোমাদের (ছগীরা) গোনাহসমূহ মার্জনা করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবো।
আর তোমরা এমন সব বিষয় আকাংখা করো না, যেসব বিষয়ে আল্লাহ তোমাদের পরস্পরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। পুরুষ যা উপার্জন করে, সেটা তার অংশ এবং নারী যা উপার্জন করে, সেটা তার অংশ। তোমরা আল্লাহ্র নিকটে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে জ্ঞাত।
পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়গণ যা পরিত্যাগ করে যায়, সে সবের জন্য আমরা উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ, তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সাক্ষী।
পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। এজন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দান করেছেন এবং এজন্য যে, তারা (নারীদের ভরণ-পোষণের জন্য) তাদের মাল-সম্পদ হ’তে ব্যয় করে থাকে। অতএব সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহ যার হেফাযত করেছেন, আড়ালেও (সেই গুপ্তাঙ্গের) হেফাযত করে। আর তোমরা যেসব স্ত্রীর অবাধ্যতার আশংকা কর, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং (প্রয়োজনে) প্রহার কর। অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহ’লে তাদের জন্য অন্য কোন পথ তালাশ করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোচ্চ ও মহীয়ান।
আর যদি তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর, তাহ’লে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন শালিশ নিযুক্ত কর। যদি তারা উভয়ে মীমাংসা চায়, তাহ’লে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে (সম্প্রীতির) তাওফীক দান করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও তোমাদের সকল বিষয়ে অবগত।
আর তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং তার সাথে কাউকে শরীক করো না। তোমরা সদ্ব্যবহার কর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম-মিসকীন, নিকট প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, (নিঃস্ব) পথিক ও তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক ও আত্মম্ভরীকে ভালবাসেন না।
যারা কৃপণতা করে ও লোকদের কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা সম্পদ দিয়েছেন, তা গোপন করে। বস্ত্তত আমরা অকৃতজ্ঞদের জন্য হীনকর শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
আর যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহ্র প্রতি ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না (তাদের জন্যেও একই শাস্তি)। বস্ত্তত শয়তান যার সঙ্গী হয়েছে, সে নিকৃষ্ট সঙ্গীই বটে!
তাদের কি ক্ষতি হ’ত, যদি তারা আল্লাহ ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত এবং আল্লাহ তাদের যে রূযী দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করত? বস্ত্তত আল্লাহ তাদের বিষয়ে সম্যক অবহিত।
নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণ যুলুম করেন না। যদি সেটি সৎকর্ম হয়, তাহ’লে তিনি তার ছওয়াব দ্বিগুণ করে দেন। আর আল্লাহ নিজের থেকে মহা পুরস্কার দিয়ে থাকেন।
অতএব সেদিন কেমন হবে, যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী (নবী) আনব এবং তোমাকে তাদের সকলের উপর সাক্ষী করব?
যেদিন অবিশ্বাসীরা ও রাসূলের অবাধ্যরা কামনা করবে, যদি মাটি তাদেরকে নিয়ে সমতল হয়ে যেত! অথচ তারা আল্লাহ্র নিকট কোন কথাই লুকাতে পারবে না।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছালাতের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পার যা তোমরা বলছ। আর নাপাক অবস্থায় ছালাতের নিকটবর্তী হয়োনা যতক্ষণ না গোসল কর; তবে যদি তোমরা পথ চলা অবস্থায় থাক (সেটি স্বতন্ত্র কথা)। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক, অথবা পায়খানা থেকে আস কিংবা স্ত্রীগমন করে থাক, অতঃপর যদি পানি না পাও, তাহ’লে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। এমতাবস্থায় মুখমন্ডল ও দু’হাত মাটি দ্বারা মাসাহ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী ও ক্ষমাশীল।
তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, অথচ ভ্রষ্টতাকে খরীদ করেছে? আর তারা চায় যে, তোমরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের বিষয়ে সর্বাধিক অবগত। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
ইহূদীদের কেউ কেউ যথাস্থান হ’তে (তাওরাতের) বাক্য সমূহ (অর্থাৎ শেষনবী আগমনের বাক্য সমূহ) পরিবর্তন করে এবং বলে, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। তুমি শোন (হে মুহাম্মাদ)! তোমার কথা শোনা (মানা) হ’ল না। তুমি আমাদের রাখাল। তারা কথাগুলি বলে জিহবা বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য হেতু। অথচ যদি তারা বলত, আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম এবং (হে মুহাম্মাদ) শুনুন! আপনি আমাদের তদারকি করুন! তাহ’লে সেটাই হ’ত তাদের জন্য উত্তম ও যথার্থ। কিন্তু আল্লাহ তাদের উপর লা‘নত করেছেন তাদের অবিশ্বাসের কারণে। ফলে তারা ঈমান আনে না অল্পসংখ্যক ব্যতীত।
হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তার (কুরআনের) উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমরা নাযিল করেছি সত্যায়নকারী রূপে ঐ কিতাবের যা তোমাদের কাছে রয়েছে, সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন আমরা বহু মুখমন্ডল বিকৃত করে দেব এবং সেগুলিকে পিছন দিকে ঘুরিয়ে দেব। অথবা তাদের উপর লা‘নত করব যেমন আমরা লা‘নত করেছিলাম শনিবার ওয়ালাদের উপর। বস্ত্তত আল্লাহ্র হুকুম অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। এতদ্ব্যতীত তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে শরীক সাব্যস্ত করল, সে মহাপাপের মিথ্যা রটনা করল।
তুমি কি ঐ ব্যক্তিদের দেখোনি, যারা নিজেদের পবিত্রতা যাহির করে। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আর তারা সুতা পরিমাণও অত্যাচারিত হবে না।
দেখ! তারা কিভাবে আল্লাহ্র উপর মিথ্যা রটনা করছে। অথচ এটাই তাদের প্রকাশ্য পাপের জন্য যথেষ্ট।
তুমি কি তাদের (ইহূদীদের) দেখোনি, যাদেরকে ইলাহী কিতাবের কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে। যারা প্রতিমা ও শয়তানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং (মক্কার) কাফেরদের বলে যে, তারাই মুমিনদের চাইতে অধিক সুপথপ্রাপ্ত।
এদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাৎ করেছেন। আর আল্লাহ যাকে অভিসম্পাৎ করেন, তুমি তার কোন সাহায্যকারী পাবে না।
তবে কি তাদের জন্য আল্লাহ্র রাজত্বে কোন অংশ রয়েছে? তাহ’লে তারা লোকদের এক কপর্দকও সাহায্য দিত না।
তবে কি তারা লোকদের (মুসলমানদের) প্রতি এজন্য হিংসা করে যে, আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ থেকে তাদের কিছু দান করেছেন। আর আমরা তো ইব্রাহীমের বংশধরগণকে কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করেছিলাম এবং তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল সাম্রাজ্য।
অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং অনেকেই তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বস্ত্তত তাদের জন্য জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিই যথেষ্ট।
নিশ্চয়ই যারা আমাদের আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করে, সত্বর আমরা তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করাবো। যখন তাদের চামড়াগুলি দগ্ধ হয়ে যাবে, তখন আমরা তা পাল্টে অন্য চামড়া দান করব। যাতে তারা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, সত্বর আমরা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্রা স্ত্রীগণ। আর আমরা তাদেরকে প্রবেশ করাবো ছায়াঘন বাগিচায়।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানত সমূহকে যথা স্থানে সমর্পণ কর। আর যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়-নীতির সাথে করবে। আল্লাহ তোমাদের কতই না সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আনুগত্য কর আললাহ্র এবং আনুগত্য কর রাসূলের ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের। অতঃপর যদি কোন বিষয়ে তোমরা বিতন্ডা কর, তাহ’লে বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হয়ে থাক। এটাই হ’ল কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম।
তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা ধারণা করে যে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে যা তোমার উপর নাযিল হয়েছে তার উপর এবং যা তোমার পূর্বে নাযিল হয়েছে তার উপর। তারা ত্বাগূতের নিকট ফায়ছালা পেশ করতে চায়। অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাকে অস্বীকার করার জন্য। বস্ত্তত শয়তান তাদেরকে দূরতম ভ্রষ্টতায় নিক্ষেপ করতে চায়।
যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে যে, তারা তোমার থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিবে।
অতঃপর তখন কেমন হবে, যখন তাদের কৃতকর্মের দরুন তাদের উপর বিপদ আপতিত হবে, তখন তারা আল্লাহ্র নামে কসম করতে করতে তোমার কাছে এসে বলবে, সদাচরণ ও সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই আমরা কামনা করিনি।
এরা হ’ল ঐসব লোক, যাদের অন্তরের লুক্কায়িত বিষয় আল্লাহ জানেন। অতএব তুমি ওদের এড়িয়ে চল ও উপদেশ দাও এবং তাদেরকে নিজেদের সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা বলে দাও।
আমরা রাসূল পাঠিয়েছি কেবল এজন্য যে, তার আনুগত্য করা হবে আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে। আর যদি তারা নিজেদের উপর যুলুম করার পর তোমার নিকটে আসত, অতঃপর আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তাহ’লে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও দয়াশীলরূপে পেত।
অতএব তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই (পূর্ণ) মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয় সমূহে তোমাকে বিচারক রূপে মেনে নিবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়ছালায় তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা না রাখবে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নিবে।
যদি আমরা তাদের উপর বিধিবদ্ধ করে দিতাম যে, তোমরা পরস্পরকে হত্যা কর এবং তোমাদের নগরী থেকে তোমরা বেরিয়ে যাও, তাহ’লে তারা তা করত না, কিছু সংখ্যক ব্যতীত। তবে তাদেরকে যেসব বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি যদি তারা করত, তাহ’লে সেটাই হ’ত তাদের জন্য উত্তম ও (সত্যের উপর) অধিকতর দৃঢ়তার বিষয়।
আর তখন আমরা তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে অবশ্যই বড় পুরস্কারে ভূষিত করতাম।
এবং আমরা অবশ্যই তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করতাম।
বস্ত্তত যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের সাথী হবে, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। আর তারা কতই না সুন্দর সাথী!
উক্ত অনুগ্রহ হ’ল আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে। আর সর্বজ্ঞ হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর। অতঃপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে অথবা দলবদ্ধভাবে (জিহাদে) বের হও।
আর (মনে রেখ) তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে (জিহাদ থেকে) অবশ্যই পিছনে থাকবে। যদি তোমাদের কোন বিপদ আসে, তখন সে বলবে, আল্লাহ আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে (যুদ্ধে) হাযির ছিলাম না।
আর যদি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তোমাদের কোন অনুগ্রহ লাভ হয়, তখন সে অবশ্যই এমনভাবে বলবে, যেন তোমাদের ও তার মধ্যে কোন (দ্বীনী) সম্পর্ক ছিল না। সে বলবে, হায়! যদি আমি তাদের সাথে থাকতাম, তাহ’লে আমিও বড় কিছু (গণীমত) পেয়ে যেতাম।
অতএব আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধ করুক ঐসব লোক, যারা আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করে দেয়। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর নিহত হয় অথবা বিজয়ী হয়, তাকে আমরা সত্বর মহা পুরস্কারে ভূষিত করব।
আর তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করছ না? অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা ফরিয়াদ করে বলছে, হে আমাদের প্রতিপালক! এই অত্যাচারী জনপদ হ’তে তুমি আমাদের উদ্ধার কর। আর তোমার পক্ষ হ’তে আমাদের জন্য একজন নেতা নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ হ’তে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নিযুক্ত কর।
যারা ঈমানদার তারা লড়াই করে আল্লাহ্র পথে। আর যারা কাফের তারা লড়াই করে ত্বাগূতের পথে। অতএব তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল অতীব দুর্বল।
তুমি কি ঐ লোকদের দেখোনি, যাদেরকে (মক্কায়) বলা হয়েছিল তোমরা হস্ত সংযত রাখ এবং ছালাত আদায় কর ও যাকাত প্রদান কর। কিন্তু পরে যখন (মদীনায়) তাদের উপর জিহাদ ফরয করা হ’ল, তখন তাদের একটি দল মানুষকে ভয় করল, যেমন আল্লাহকে ভয় করা হয় কিংবা তার চাইতেও বেশী। তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! কেন তুমি আমাদের উপর জিহাদ ফরয করলে? কেন তুমি আমাদেরকে আরও কিছু দিনের জন্য সময় দিলে না? তুমি বল, দুনিয়ার সম্পদ তুচ্ছ। আর আখেরাতই হ’ল মুত্তাক্বীদের জন্য উত্তম। সেদিন তোমরা সুতা পরিমাণও অত্যাচারিত হবে না।
যেখানেই তোমরা থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই। যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। ঐসব লোকদের কোন কল্যাণ হ’লে তারা বলে এটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়েছে। আর কোন অকল্যাণ হ’লে তারা বলে এটি আপনার (অনুসারী হওয়ার) কারণে হয়েছে। তুমি বল, সবকিছুই আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়। অতএব ঐ লোকদের কি হ’ল যে, ওরা যেন কোন কথাই বুঝতে পারে না?
তোমার যে কল্যাণ হয়, তা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়। আর যে অকল্যাণ হয়, তা তোমার (কর্মের) ফলে হয়। বস্ত্তত আমরা তোমাকে মানবজাতির জন্য রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছি। আর (এজন্য) সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহ্র আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের উপর আমরা তোমাকে তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি।
আর তারা বলে, আমরা অনুগত। অতঃপর যখন তারা তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়, তখন তাদের একটি দল নৈশ সভায় তোমার কথার বিপরীত শলা-পরামর্শ করে। বস্ত্তত তারা যা শলা-পরামর্শ করে, সবই আল্লাহ লিখে রাখছেন। অতএব তুমি ওদের এড়িয়ে চল এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। আল্লাহই কর্মবিধায়ক হিসাবে যথেষ্ট।
তবে কি তারা কুরআন অনুধাবন করে না? যদি এটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারু নিকট থেকে আসত, তাহ’লে তারা এর মধ্যে বহু অসঙ্গতি দেখতে পেত।
আর যখন তাদের নিকট শান্তি বা সংকটের কোন খবর পৌঁছে, তখন তারা (সাথে সাথে) তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা এটা রাসূলের নিকট বা তাদের নেতাদের নিকট নিয়ে যেত, তাহ’লে তাদের মধ্যেকার তত্ত্ব সন্ধানীগণ বিষয়টি জানতে পারত। বস্ত্তত যদি তোমাদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তাহ’লে তোমরা অবশ্যই শয়তানের অনুসরণ করতে অল্পসংখ্যক ব্যতীত।
অতএব তুমি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ কর। তুমি নিজের ব্যতীত অন্য কারু যিম্মাদার নও। আর মুমিনদের উৎসাহিত কর। অবশ্যই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের শক্তি খর্ব করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ শক্তিতে দৃঢ় এবং শাস্তিদানে কঠোর।
যে ব্যক্তি ভাল কাজে সুফারিশ করে, তার জন্য তাতে একটি অংশ থাকে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজে সুফারিশ করে তার জন্য তাতে একটি অংশ থাকে। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর শক্তিমান।
আর যখন কেউ তোমাদের সম্ভাষণ জানায়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে সম্ভাষণ জানাও অথবা ওটারই পুনরাবৃত্তি কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ (ছোট-বড়) সকল বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।
আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর আল্লাহ্র চাইতে অধিক সত্যবাদী আর কে আছে?
অতঃপর তোমাদের কি হ’ল যে, তোমরা মুনাফিকদের বিষয়ে দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তাদেরকে ভ্রষ্টতায় নিক্ষেপ করেছেন তাদের কৃতকর্মের জন্য। তাহ’লে কি তোমরা তাকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার (মুক্তির) কোন পথ পাবে না।
তারা চায় তোমরা কাফের হয়ে যাও যেমন তারা কাফের হয়ে গেছে। যাতে তারা ও তোমরা সমান হয়ে যাও। অতএব তোমরা তাদের কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহ্র পথে ফিরে আসে। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে তাদেরকে যেখানে পাও, ধর ও হত্যা কর। আর তাদের কাউকে বন্ধুরূপে ও সাহায্যকারী রূপে গ্রহণ করো না।
কিন্তু যারা এমন লোকদের সাথে মিলিত হয়, যাদের সাথে তোমাদের ও তাদের মধ্যে সন্ধিচুক্তি রয়েছে অথবা তোমাদের কাছে আসে এভাবে যে, তাদের অন্তর চায়না যুদ্ধ করতে তোমাদের সাথে বা তাদের স্বজাতির সাথে। অবশ্য যদি আল্লাহ চাইতেন, তাহ’লে তিনি তাদেরকে তোমাদের উপর প্রবল করে দিতেন। তখন তারা অবশ্যই তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে ও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধিচুক্তি করে, তাহ’লে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য আল্লাহ কোন (যুদ্ধের) পথ খোলা রাখেননি।
সত্বর তোমরা এমন কিছু (কপট) লোককে পাবে, যারা তোমাদের কাছ থেকে ও তাদের সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিরাপদ থাকতে চায়। কিন্তু যখনই তাদেরকে ফিৎনার (শিরকের) দিকে ডাকা হয়, তখনই তারা তাতে লিপ্ত হয়। অতএব যদি তারা তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয় ও তোমাদের সাথে সন্ধি না করে এবং তোমাদের থেকে নিজেদেরকে বিরত না রাখে, তাহ’লে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আর আমরা তোমাদের জন্য তাদের (হত্যা করার) প্রকাশ্য প্রমাণ দান করলাম।
কোন মুমিনের জন্য সঙ্গত নয় যে, সে কোন মুমিনকে হত্যা করে ভুলক্রমে ব্যতীত। অতএব যদি কোন মুমিন কোন মুমিনকে ভুলক্রমে হত্যা করে, তবে সে একজন মুমিন ক্রীতদাসকে মুক্ত করবে এবং তার পরিবারের নিকট রক্তমূল্য সমর্পণ করবে। তবে যদি তারা ক্ষমা করে দেয় (সেকথা স্বতন্ত্র)। আর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রুদলের হয়, কিন্তু ঐ ব্যক্তি নিজে মুমিন, তাহ’লে তার বিনিময়ে একজন মুমিন ক্রীতদাসকে মুক্ত করবে। আর যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহ’লে তার পরিবারের নিকট রক্তমূল্য সমর্পণ করবে এবং একটি মুমিন ক্রীতদাস মুক্ত করবে। কিন্তু যদি সে তা না পায়, তাহ’লে আল্লাহ্র নিকট থেকে ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য একটানা দু’মাস ছিয়াম পালন করবে। আল্লাহ মহাবিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হ’ল জাহান্নাম। সেখানেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে লা‘নৎ করেছেন এবং তার জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্ত্তত রেখেছেন।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা আল্লাহ্র রাস্তায় সফরে বের হও, তখন সব বিষয় যাচাই কর এবং যে তোমাদের সালাম করে তাকে বলো না যে তুমি মুমিন নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ কামনা কর। অথচ আল্লাহ্র নিকটে রয়েছে অঢেল সম্পদ। ইতিপূর্বে তোমরাও তো সম্পদহীন ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব সবকিছু যাচাই করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা কর সবই খবর রাখেন।
অক্ষম ব্যতীত ঘরে বসা মুমিনগণ ঐসব মুজাহিদগণের সমান নয়, যারা তাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করে। যারা মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা ঘরে বসা মুমিনদের উপরে এক দর্জা বৃদ্ধি করেছেন। আর উভয়ের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহিদগণকে ঘরে বসা মুমিনদের উপর মহা পুরস্কারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
আর তাঁর পক্ষ হ’তে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা সমূহ এবং ক্ষমা ও দয়া। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
নিশ্চয় যারা (হিজরত না করে) নিজেদের উপর যুলুম করেছিল, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করার পর বলে তোমরা কি অবস্থায় ছিলে (মুসলিম না মুশরিক?)। তারা বলবে, জনপদে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলবে, আল্লাহ্র যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যেখানে তোমরা হিজরত করে যেতে? অতএব ওদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম। আর তা অতীব নিকৃষ্ট স্থান।
তবে পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা অসহায়, যারা কোন উপায় বের করতে পারে না এবং কোন পথও জানে না।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। বস্ত্তত আল্লাহ মার্জনাকারী ও ক্ষমাশীল।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পথে দেশ ত্যাগ করবে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয়স্থল ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তার গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে, অতঃপর মৃত্যু তাকে গ্রাস করে। তার প্রতিদানের ভার আল্লাহ্র উপর ন্যস্ত হয়েছে। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর যখন তোমরা সফর কর, তখন ছালাতে ‘ক্বছর’ করায় তোমাদের কোন দোষ নেই, যদি তোমরা আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদের ফিৎনায় ফেলবে। নিশ্চয়ই কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আর যখন তুমি (কোন অভিযানে) তাদের সাথে থাকবে এবং জামা‘আতে ইমামতি করবে, তখন তোমার সাথে তাদের একদল দাঁড়াবে এবং অন্যদল অস্ত্র ধারণ করবে। অতঃপর ছালাত শেষে তারা যেন তোমার পিছন থেকে সরে যায় এবং যারা ছালাত পড়েনি তারা চলে আসে ও তোমার সাথে ছালাত আদায় করে। এ সময় অন্যেরা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফেররা চায় তোমরা তোমাদের অস্ত্র ও রসদপত্রে সামান্য অসতর্ক হ’লেই তারা একযোগে তোমাদের উপর হামলা করবে। অবশ্য যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্টে পতিত হও কিংবা পীড়িত হয়ে পড়, তখন অস্ত্র পরিত্যাগে কোন দোষ নেই। তবে আত্মরক্ষার অস্ত্র সাথে রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের জন্য হীনকর শাস্তি প্রস্ত্তত রেখেছেন।
অতঃপর যখন তোমরা (ভীতির) ছালাত শেষ করবে, তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া সর্বাবস্থায় আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ কর। অতঃপর যখন তোমরা শংকামুক্ত হও, তখন সুস্থিরভাবে ছালাত সম্পন্ন কর। নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্ধারিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।
আর শত্রুর পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য প্রদর্শন করো না। যদি তোমরা আঘাতপ্রাপ্ত হও, তবে তারাও তোমাদের ন্যায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা আল্লাহ্র নিকট থেকে (জান্নাতের) আশা কর, যা তারা করে না। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সত্য সহকারে। যাতে তুমি লোকদের মধ্যে ফায়ছালা করতে পার, যে জ্ঞান আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন সে অনুযায়ী। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষে বাদী হয়ো না।
তুমি আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর যারা নিজেদের মধ্যে খেয়ানত করে, তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন খেয়ানতকারী পাপীকে ভালবাসেন না।
তারা লোকদের থেকে লুকাতে চায়, কিন্তু আল্লাহ থেকে লুকাতে চায় না। তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন তারা রাত্রিতে (আল্লাহ্র) অপ্রিয় বাক্যে শলা-পরামর্শ করে। বস্ত্তত আল্লাহ তাদের সকল কৃতকর্মকে বেষ্টন করে আছেন।
সাবধান, তোমরাই তো তারা, যারা ওদের পক্ষে পার্থিব জীবনে বিতর্ক করছ। কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন কে তাদের পক্ষে আল্লাহ্র সাথে বিতর্ক করবে এবং কে তাদের যিম্মাদার হবে?
যে কেউ মন্দকর্ম করে অথবা নিজের উপর যুলুম করে, অতঃপর আল্লাহ্র নিকট ক্ষমাপ্রার্থী হয়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসাবে পাবে।
আর যে কেউ পাপ অর্জন করে, সে নিজের বিরুদ্ধেই সেটি করে। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
যে ব্যক্তি কোন অপরাধ অথবা পাপ করে, অতঃপর তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির উপর চাপায়, সে উক্ত অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপভার নিজের উপর চাপিয়ে নিল।
যদি তোমার প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তাহ’লে তাদের একটি দল তোমাকে পথচ্যুৎ করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। এর দ্বারা তারা নিজেদেরকেই কেবল পথভ্রষ্ট করেছে এবং তোমার কোন ক্ষতি তারা করতে পারেনি। আর আল্লাহ তোমার উপর কিতাব ও সুন্নাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। বস্ত্তত তোমার উপর আল্লাহ্র করুণা অসীম।
তাদের অধিকাংশ শলা-পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই। তবে যে পরামর্শে তারা মানুষকে ছাদাক্বা করার বা সৎকর্ম করার কিংবা লোকদের মধ্যে পরস্পরে সন্ধি করার উৎসাহ দেয় সেটা ব্যতীত। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সেটা করে, নিশ্চয়ই আমরা তাকে মহা পুরস্কারে ভূষিত করব।
আর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে সুপথ স্পষ্ট হওয়ার পর এবং মুমিনদের বিপরীত পথে চলে, আমরা তাকে ঐদিকেই ফিরিয়ে দেই যেদিকে সে যেতে চায় এবং তাকে আমরা জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট ঠিকানা।
নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এটা ব্যতীত তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করল, সে দূরতম ভ্রষ্টতায় নিপতিত হ’ল।
তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কাউকে আহবান করেনা নারী ব্যতীত। আর তারা কাউকে আহবান করেনা অবাধ্য শয়তান ব্যতীত।
আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেছেন। আর সে বলেছিল, অবশ্যই আমি তোমার বান্দাদের মধ্য হ’তে একটা নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে টেনে নেব।
আর আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব ও তাদেরকে আদেশ দেব যেন তারা গবাদিপশুর কর্ণ ছেদন করে এবং তাদেরকে আদেশ করব যেন তারা আল্লাহ্র সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে দেয়। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।
সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় ও মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়।
ওদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম। আর সেখান থেকে তারা বাঁচার কোন পথ পাবে না।
পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করেছে, সত্বর তাদেরকে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। আর আল্লাহ্র চাইতে কথায় অধিক সত্যবাদী আর কে আছে?
না তোমাদের বৃথা আকাংখায় কোন কাজ হবে, না আহলে কিতাবদের মিথ্যা আকাংখায় কোন কাজ হবে। বরং যে কেউ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল পাবে। আর আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সে বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসাবে পাবে না।
পুরুষ হৌক বা নারী হৌক যে কেউ বিশ্বাসী হয় ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারা কণা পরিমাণও অত্যাচারিত হবে না।
তার চাইতে উত্তম দ্বীন কার আছে, যে তার চেহারাকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে সমর্পণ করেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং ইব্রাহীমী দ্বীনের একনিষ্ঠ অনুসারী হয়েছে? বস্ত্তত আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
আর আল্লাহ্র জন্যই সবকিছু। যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছুকে বেষ্টনকারী।
লোকেরা তোমার নিকট নারীদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বল আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন এবং যা এই কিতাবে তোমাদের নিকট (ইতিপূর্বে) পাঠ করা হয়েছে ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে যাদের নির্ধারিত হক তোমরা দাও না। অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও, আবার বিয়ে না করে আটকে রাখতে চাও। অতএব অসহায় শিশু ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমরা সুবিচার কর। বস্ত্তত তোমরা যেসব সৎকর্ম কর, আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত।
যদি কোন স্ত্রী তার স্বামী থেকে দূরত্ব ও উপেক্ষার আশংকা করে, তাহ’লে তারা পরস্পরে কোন সমঝোতায় উপনীত হ’লে, তাতে কোন দোষ নেই। আর মীমাংসাই উত্তম। (যদিও) মানুষ স্বভাবতঃ কৃপণ। তবে যদি তোমরা সদাচরণ কর এবং সংযমী হও, তাহ’লে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম বিষয়ে অবগত।
তোমরা কখনো স্ত্রীদের মধ্যে সমান ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না, যদিও তোমরা তাতে আকাংখী হও। অতএব তোমরা কোন একজনের প্রতি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ো না এবং তার ফলে অপর জনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও ও সংযমী হও, তাহ’লে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর যদি উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ স্বীয় প্রাচুর্য দ্বারা তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞাময়।
নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্র। আর নিশ্চিতভাবে আমরা আদেশ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী কিতাবধারীদের প্রতি এবং তোমাদের প্রতি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। কিন্তু যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান কর, তবে জেনে রেখ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্র। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
আর আল্লাহ্র জন্যই সবকিছু। যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। আর সবকিছুর কর্ম বিধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
যদি তিনি ইচ্ছা করেন হে মানবজাতি! (তোমাদের হটিয়ে) এখানে অন্যদেরকে আনয়ন করবেন। আর এতে আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান।
যে ব্যক্তি (কেবল) দুনিয়াতে প্রতিদান চায়, তার জানা উচিৎ যে, আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া ও আখেরাত দু’টিরই প্রতিদান রয়েছে। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য সত্য সাক্ষ্য দানে অবিচল থাক, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। (বাদী-বিবাদী) ধনী হৌক বা গরীব হৌক, আল্লাহ তাদের সর্বাধিক শুভাকাংখী। অতএব ন্যায়বিচারে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
হে মুমিনগণ! তোমরা (পূর্ণরূপে) বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহ্র উপরে, তাঁর রাসূলের উপরে এবং ঐ কিতাবের উপরে যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রাসূলের উপর এবং ঐ সকল কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছিলেন ইতিপূর্বে। আর যে কেউ অবিশ্বাস করে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রাসূলগণের উপর ও ক্বিয়ামত দিবসের উপর, সে দূরতম ভ্রষ্টতায় নিপতিত হ’ল।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে অতঃপর কুফরী করে। তারপর ঈমান আনে, পুনরায় কুফরী করে, অতঃপর তাদের কুফরী বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করবেন না।
তুমি মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
যারা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের কাছে সম্মান কামনা করে? অথচ সকল সম্মান কেবল আল্লাহ্রই জন্য।
আর তিনি এই কিতাবে তোমাদের উপর এই আদেশ নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে যে, আল্লাহ্র আয়াত সমূহে অবিশ্বাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় লিপ্ত হয়। নইলে তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফিক ও কাফেরদের সকলকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।
যারা সর্বদা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে। অতঃপর যখন আল্লাহ্র ইচ্ছায় তোমাদের কোন বিজয় অর্জিত হয়, তখন তারা বলে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? পক্ষান্তরে যদি কাফেরদের আংশিক বিজয় ঘটে, তখন তারা তাদের কাছে গিয়ে বলে, আমরা কি তোমাদের উপর বিজয়ী হ’তে পারতাম না এবং আমরা কি মুসলিম বাহিনীর কবল থেকে তোমাদের রক্ষা করিনি? বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে ফায়ছালা করবেন ক্বিয়ামতের দিন। আর আল্লাহ কখনোই মুমিনদের উপর কাফেরদের কোন অধিকার সাব্যস্ত করবেন না।
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহ্র সাথে প্রতারণা করে। আর তিনিও তাদের বদলা নেন। যখন তারা ছালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় এবং আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।
এরা দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। না ওরা মুমিনদের দিকে, না ওরা কাফেরদের দিকে। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তাকে কখনোই বাঁচানোর পথ পাবে না।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহ্র নিকট তোমাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করতে চাও?
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তুমি কখনোই তাদের কোন সাহায্যকারী পাবে না।
তবে তারা ব্যতীত, যারা তওবা করে ও সংশোধিত হয় এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে ও আল্লাহ্র জন্য তাদের আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে, তারাই হবে মুমিনদের সাথী। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের মহা পুরস্কারে ভূষিত করবেন।
তোমাদের শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কি করবেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর ও ঈমানদার হও? বস্ত্তত আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ।
আল্লাহ কোন মন্দ কথা প্রকাশ করা পসন্দ করেন না। তবে যে অত্যাচারিত হয় (তার কথা স্বতন্ত্র)। আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
যদি তোমরা কোন সৎকর্ম প্রকাশ কর বা গোপন কর কিংবা কোন অপরাধ মার্জনা কর, তাতে আল্লাহ নিশ্চয়ই মার্জনাকারী ও সর্বশক্তিমান।
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় ও বলে যে, আমরা কতক নবীকে বিশ্বাস করি ও কতক নবীকে অবিশ্বাস করি, আর এভাবে তারা মধ্যবর্তী একটা পথ অবলম্বন করতে চায়-
ওরাই হ’ল প্রকৃত কাফের। আর কাফেরদের জন্য আমরা হীনকর শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ ও তার রাসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের কারু মধ্যে কোন পার্থক্য করে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের পুরস্কার দান করবেন। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আহলে কিতাবগণ তোমার কাছে আবেদন করছে যে, তুমি তাদের প্রতি আকাশ থেকে কোন কিতাব নাযিল করাও। বরং তারা মূসার কাছে এর চাইতে বড় দাবী পেশ করেছিল। তারা বলেছিল, তুমি আল্লাহকে আমাদের সামনে প্রকাশ্যে এনে দেখাও। তখন তাদের এই সীমালংঘনের কারণে প্রচন্ড নিনাদ তাদের পাকড়াও করে। অতঃপর তারা গোবৎস পূজা শুরু করে তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে যাওয়ার পরেও। অতঃপর আমরা তাদের মার্জনা করি। বস্ত্তত আমরা মূসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দান করেছিলাম।
আর আমরা তাদের কাছ থেকে (তাওহীদের) প্রতিশ্রুতি নেবার জন্য তাদের উপরে তূর পাহাড়কে তুলে ধরেছিলাম। আর তাদেরকে বলেছিলাম তোমরা (বায়তুল মুক্বাদ্দাস শহরের) প্রধান ফটক দিয়ে অবনত মস্তকে প্রবেশ কর। আর বলেছিলাম শনিবার (ইবাদতের দিন) সীমালংঘন করো না। এভাবে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
কিন্তু তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে এবং আল্লাহ্র আয়াত সমূহে অবিশ্বাস করার কারণে ও অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথার কারণে যে, আমাদের হৃদয় সমূহ আচ্ছাদিত- বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদের অন্তর সমূহে মোহর মেরে দিয়েছেন। ফলে তারা ঈমান আনেনি অল্প সংখ্যক ব্যতীত।
আর তাদের কুফরীর কারণে ও মারিয়ামের বিরুদ্ধে তাদের গুরুতর অপবাদ রটানোর কারণে।
এবং এই কথার কারণে যে, আমরা হত্যা করেছি আল্লাহ্র রাসূল মারিয়াম-পুত্র ঈসা মসীহকে। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, শূলেও চড়ায়নি, বরং তাদের জন্য সদৃশ বানানো হয়েছিল। আর যারা এতে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যই ঈসার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই কেবল ধারণা ব্যতীত। আর নিশ্চিতভাবেই তারা তাকে হত্যা করেনি।
বরং আল্লাহ তাকে নিজের পানে উঠিয়ে নিয়েছেন। বস্ত্তত আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর আহলে কিতাবদের প্রত্যেকে অবশ্যই ঈসার উপরে ঈমান আনবে তার মৃত্যুর পূর্বে (ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে তার অবতরণের পর)। আর ক্বিয়ামতের দিন সে তাদের সকলের উপর সাক্ষী হবে।
অতঃপর ইহূদীদের সীমালংঘনের কারণে আমরা তাদের উপর হারাম করেছিলাম বহু পবিত্র বস্ত্ত, যা তাদের জন্য হালাল ছিল এবং এ কারণে যে, তারা বহু মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বাধা দিত।
আর এ কারণে যে, ওরা সূদ নিত। অথচ তাদেরকে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। আর তারা অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ গ্রাস করত। বস্ত্তত আমরা তাদের মধ্যেকার কাফেরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা গভীর জ্ঞানী এবং মুমিনগণ বিশ্বাস স্থাপন করে যা তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে তার উপর এবং যা নাযিল হয়েছে তোমার পূর্বে তার উপর। আর যারা ছালাত কায়েমকারী, যাকাত আদায়কারী এবং আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস পোষণকারী, তাদেরকে আমরা অবশ্যই মহা পুরস্কারে ভূষিত করব।
নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতি ‘অহি’ করেছি, যেমন ‘অহি’ করেছিলাম নূহের প্রতি এবং তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি। আর আমরা ‘অহি’ করেছি ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের বংশধরগণের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূণ ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমরা দাঊদকে ‘যবূর’ প্রদান করেছিলাম।
কিছু রাসূল সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে তোমাকে বলেছি এবং কিছু রাসূল সম্পর্কে বলিনি। আর আল্লাহ মূসার সঙ্গে সরাসরি (পর্দার অন্তরাল থেকে) কথোপকথন করেছেন।
আমরা রাসূলগণকে জান্নাতের সুসংবাদ দানকারী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি। যাতে রাসূলগণের পরে লোকদের জন্য আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কোনরূপ অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ না থাকে। আর আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
বরং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি তোমার প্রতি নাযিল করেছেন, তা স্বীয় ইলম অনুযায়ীই নাযিল করেছেন এবং একই সাক্ষ্য দিচ্ছে ফেরেশতামন্ডলী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
নিশ্চয় যারা কুফরী করে ও আল্লাহ্র রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা দূরতম ভ্রষ্টতায় পতিত।
নিশ্চয় যারা কুফরী করে ও ঈমানদারগণের উপর যুলুম করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন না,
জাহান্নামের পথ ব্যতীত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটা আল্লাহ্র পক্ষে খুবই সহজ।
হে মানবজাতি! তোমাদের নিকট রাসূল এসেছেন সত্য সহকারে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে। অতএব তোমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, তোমাদের কল্যাণের জন্য। আর যদি অবিশ্বাস কর, তবে (মনে রেখ) নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্র। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ব্যতীত বলো না। মারিয়াম-পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহ্র রাসূল এবং তাঁর কালেমা (নির্দেশ) ও রূহ ব্যতীত নন, যা তিনি নিক্ষেপ করেন মারিয়ামের প্রতি। অতএব তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর। আর তোমরা তিন উপাস্য বলো না। এরূপ বলা থেকে বিরত হও তোমাদের কল্যাণের জন্য। নিশ্চয় আল্লাহ একক উপাস্য ব্যতীত নন। তাঁর সন্তান থাকবে এরূপ বিষয় থেকে তিনি পবিত্র। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। আর কর্মবিধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
মসীহ কখনো সংকোচ বোধ করেনি নিজেকে আল্লাহ্র বান্দা বলতে এবং সংকোচ বোধ করেনি নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ইবাদতে সংকোচ বোধ করে ও অহংকার করে, অবশ্যই তিনি তাদের সকলকে নিজের কাছে একত্রিত করবেন।
অতএব যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে তিনি পূর্ণরূপে পুরস্কার দিবেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে আরও বেশী দিবেন। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ্র ইবাদতে সংকোচ বোধ করে ও অহংকার করে, তাদেরকে তিনি মর্মান্তিক শাস্তি প্রদান করবেন। আর তারা আল্লাহ ব্যতীত কাউকে বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসাবে পাবে না।
হে মানবজাতি! তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে এসে গেছে অকাট্য প্রমাণ এবং তোমাদের প্রতি আমরা নাযিল করেছি উজ্জ্বল জ্যোতি।
অতঃপর যারা আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাঁর কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ ও কল্যাণের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাদেরকে তাঁর প্রতি সরল পথ প্রদর্শন করবেন।
লোকেরা তোমার নিকট ফৎওয়া তলব করছে। তুমি বল, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ্’র সম্পত্তি বণ্টন সম্পর্কে ফৎওয়া দিচ্ছেন। যদি কোন ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার কোন সন্তান নেই কেবল একটি বোন ব্যতীত, তাহ’লে সে তার সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। আর যদি বোনের কোন সন্তান না থাকে, তাহ’লে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। আর যদি দু’টি বোন থাকে, তাহ’লে তারা দুই তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা অনেক ভাই ও বোন থাকে, তাহ’লে ‘এক ভাই দুই বোনের সমান’ নীতিতে সম্পত্তি বণ্টিত হবে। আল্লাহ তোমাদেরকে এগুলি বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত।