بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের অঙ্গীকার সমূহ পূর্ণ কর। আর তোমাদের জন্য গবাদিপশু হালাল করা হয়েছে। তবে যেগুলি (হারাম হওয়া) বিষয়ে তোমাদের উপর পাঠ করা হয়েছে (সেগুলি ব্যতীত)। আর মুহরিম অবস্থায় শিকারকে বৈধ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান, তাই নির্দেশ দেন।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা হালাল করো না আল্লাহ্র (অর্থাৎ হজ্জের) নিদর্শন সমূহকে, সম্মানিত মাস সমূহকে, হারামের জন্য উৎসর্গীত পশু সমূহকে এবং (উক্ত উদ্দেশ্যে প্রেরিত) গলাবন্ধ পরিহিত পশুসমূহকে এবং স্বীয় প্রতিপালকের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় বহির্গত বায়তুল্লাহ্র মুসাফিরগণকে। আর যখন তোমরা (ইহরাম খুলে) হালাল হবে, তখন শিকার কর। বস্ত্তত যারা তোমাদেরকে মাসজিদুল হারামে যেতে বাধা দিয়েছিল, সেই লোকদের প্রতি বৈরিতা যেন তোমাদেরকে সীমালংঘনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তি দাতা।
তোমাদের উপর হারাম করা হ’ল মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গীত পশু, শ্বাসরোধে মৃত পশু, প্রহারে মৃত পশু, পতনে মৃত পশু, শিংয়ের গুঁতায় মৃত পশু, হিংস্র জন্তুর খাওয়া পশু, তবে যা তোমরা যবেহ দ্বারা হালাল করেছ, তা ব্যতীত এবং পূজার বেদীতে যবেহ করা পশু। আর জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ধারণ তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এসবই পাপের কাজ। আজ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীগণ তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা তাদের ভয় করো না, আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহকে সম্পূর্ণ করলাম। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম। অতঃপর যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধার তাড়নায় (ঐসব হারাম খাদ্য ভক্ষণে) বাধ্য হয় কোনরূপ পাপের প্রতি ঝুঁকে না পড়ে, (সে অবস্থায়) আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে তাদের জন্য কি কি বস্ত্ত হালাল করা হয়েছে? বলে দাও, সকল পবিত্র বস্ত্ত তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং তোমাদের শিকারী পশু-পক্ষীদের উপার্জন সমূহ; যাদেরকে তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাক, আল্লাহ্র দেওয়া শিক্ষা থেকে। অতএব ওরা যেসব শিকারকে তোমাদের জন্য ধরে রাখে, তা খাও। তবে তাকে শিকারে পাঠাবার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বল। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
আজ তোমাদের জন্য সকল পবিত্র বস্ত্ত হালাল করা হ’ল। আর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশু তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের যবেহকৃত পশু তাদের জন্য হালাল। আর সতী-সাধ্বী মুসলিম নারী এবং তোমাদের পূর্বেকার আহলে কিতাবদের মধ্যেকার সতী-সাধ্বী নারী যারা ব্যভিচারী বা গোপন প্রণয়িনী নয় (তোমাদের জন্য হালাল), যখন তোমরা তাদের মোহরানা প্রদান করবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের বদলে কুফরী করে, তার সমস্ত আমল বরবাদ হবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা ছালাতে দন্ডায়মান হবে, তখন (ওযূর জন্য) তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই সমেত ধৌত কর এবং মাথা মাসাহ কর ও পদযুগল টাখনু সমেত ধৌত কর। কিন্তু যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাক, তাহ’লে ভালভাবে পবিত্র হও। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা পায়খানা থেকে আস কিংবা নারী স্পর্শ করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তাহ’লে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর এবং তোমাদের মুখমন্ডল ও দু’হাত উক্ত মাটিতে মাসাহ কর। আল্লাহ তোমাদের কোনরূপ কষ্ট দিতে চান না। বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তোমাদের উপর স্বীয় অনুগ্রহ পরিপূর্ণ করতে। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আর তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহকে স্মরণ কর এবং ঐ অঙ্গীকারকে স্মরণ কর যা তোমরা তাঁর সাথে করেছিলে। যখন তোমরা বলেছিলে, আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মনের খবর জানেন।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য সত্য সাক্ষ্য দানে অবিচল থাক এবং কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে অবিচারে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর, যা আল্লাহভীতির সর্বাধিক নিকটবর্তী। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।
আর যারা অবিশ্বাস করে ও আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে, তারা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী।
হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহকে স্মরণ কর। যখন একটি সম্প্রদায় (ইহূদীগণ) তোমাদের প্রতি হস্ত প্রসারিত করার সংকল্প করেছিল। তখন তিনি তাদের হস্তকে তোমাদের থেকে প্রতিহত করেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর আল্লাহ্র উপরেই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।
আর আল্লাহ বনু ইস্রাঈলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমরা তাদের মধ্য থেকে বারো জনকে নেতা নিযুক্ত করেছিলাম। আর আল্লাহ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সাথে আছি। যদি তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, আমার রাসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর ও তাদেরকে সাহায্য কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তাহ’লে আমি অবশ্যই তোমাদের পাপ সমূহ মোচন করব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। এরপরেও তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুফরী করবে, অবশ্যই সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।
অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমরা তাদের উপর লা‘নত করি এবং তাদের অন্তরগুলিকে শক্ত করে দেই। তারা (তাওরাতের) শব্দসমূহকে (অর্থাৎ শেষনবী আগমনের শব্দসমূহকে) স্ব স্ব স্থান থেকে সরিয়ে নেয় এবং তাদেরকে যেসব বিষয় উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি তারা বিস্মৃত হয়। আর তুমি তাদেরকে সর্বদা খেয়ানত করতে দেখবে অল্প কিছু লোক ব্যতীত। অতএব তুমি তাদের মার্জনা কর ও ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।
আর যারা বলে আমরা নাছারা, তাদের থেকে আমরা অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। অতঃপর তাদেরকে যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা তার প্রধান অংশ (অর্থাৎ শেষনবী আগমনের কথা) বিস্মৃত হ’ল। ফলে আমরা তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ বদ্ধমূল করে দিলাম ক্বিয়ামত পর্যন্ত। আর অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।
হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের নিকট আমাদের রাসূল এসেছে। যেসব বিষয় তোমরা তোমাদের কিতাব থেকে গোপন কর, সেসব বিষয় সে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিচ্ছে এবং বহু বিষয় সে এড়িয়ে যায়। বস্ত্তত তোমাদের নিকট আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে এসেছে একটি জ্যোতি ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাব।
যার মাধ্যমে আল্লাহ ঐসব লোকদের শান্তির পথ সমূহ প্রদর্শন করেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং তিনি তাদেরকে (কুফরীর) অন্ধকার হ’তে (ঈমানের) আলোর দিকে বের করে আনেন স্বীয় অনুমতিক্রমে। আর তিনি তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
অবশ্যই তারা কুফরী করে যারা বলে, নিশ্চয় আল্লাহ তো মারিয়াম-পুত্র মসীহ। বল, তাহ’লে কে আছে আল্লাহ থেকে তাদের রক্ষা করতে পারে, যদি আল্লাহ মারিয়াম-পুত্র মসীহ ও তার মাকে এবং ভূপৃষ্ঠে যারা আছে সবাইকে ধ্বংস করতে চান? বরং আল্লাহ্রই জন্য আসমান ও যমীনের ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে, সবকিছুর রাজত্ব। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
ইহূদী ও খৃষ্টানরা বলে আমরা আল্লাহ্র সন্তান ও তার প্রিয়ভাজন। বলে দাও, (যদি তাই হবে) তাহ’লে তিনি কেন তোমাদেরকে তোমাদের পাপের কারণে শাস্তি দিচ্ছেন? বরং তোমরাও অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় মানুষ মাত্র। তিনি যাকে চান ক্ষমা করেন ও যাকে চান শাস্তি দেন। আল্লাহ্রই রাজত্ব আসমান-যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যেকার সবকিছুর উপর। আর তাঁর দিকেই সবকিছুর প্রত্যাবর্তন।
হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের নিকট আমাদের রাসূল (মুহাম্মাদ) এসেছে রাসূলগণের আগমন ধারার বিরতির পর; যে তোমাদের নিকট (আমাদের হুকুম সমূহ) বর্ণনা করছে। যাতে তোমরা বলতে না পার যে, আমাদের নিকট কোন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি। অথচ এখন তোমাদের নিকট সেই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসে গেছে। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আর (স্মরণ কর) যখন মূসা তার কওমকে বলেছিল, হে আমার কওম! তোমাদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহকে স্মরণ কর যখন তিনি তোমাদের মধ্যে করেছেন বহু নবী এবং (ফেরাঊনী দাসত্বের পর) তোমাদের মধ্যে করেছেন বহু বাদশাহ। আর তোমাদের দান করেছেন এমন বহু অনুগ্রহ, যা (সমকালীন) বিশ্বে কাউকে দান করেননি।
হে আমার কওম! তোমরা এই পুণ্য ভূমিতে (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) প্রবেশ কর। যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর সাবধান! তোমরা (জিহাদ থেকে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। তাহ’লে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
তারা বলল, হে মূসা! সেখানে পরাক্রমশালী একটি সম্প্রদায় রয়েছে। অতএব আমরা সেখানে কখনোই প্রবেশ করব না, যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। যদি তারা বের হয়ে যায়, তাহ’লে আমরা প্রবেশ করব।
তখন দুই ব্যক্তি বলল, যারা আল্লাহকে ভয় করত এবং আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছিলেন, তোমরা তাদের উপর হামলা করে শহরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ কর। আর যখনই তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে, তখনই তোমরা জয়লাভ করবে। আর স্রেফ আল্লাহ্র উপরে তোমরা ভরসা কর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
তারা বলল, হে মূসা! আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকে। অতএব তুমি ও তোমার প্রতিপালক গিয়ে যুদ্ধ কর। আমরা এখানে বসে রইলাম।
তখন মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি শুধু নিজের উপর ও আমার ভাইয়ের উপর অধিকার রাখি। অতএব তুমি আমাদের উভয়ের ও এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ফায়ছালা করে দাও।
আল্লাহ বললেন, এই স্থান তাদের জন্য চল্লিশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হ’ল। তারা যমীনে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরবে। অতএব তুমি এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্য আক্ষেপ করো না।
আর তুমি তাদের নিকট আদম পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথার্থভাবে বর্ণনা কর। যখন তারা কুরবানী পেশ করল। অতঃপর একজনের কুরবানী কবুল হ’ল, কিন্তু অন্য জনেরটা হ’ল না। তখন সে বলল, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। তখন অপরজন বলল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তো কেবল মুত্তাক্বীদের কুরবানীই কবুল করে থাকেন।
সে বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যার জন্য হাত বাড়াবো না। আমি বিশ্ব প্রভু আল্লাহকে ভয় করি।
আমি মনে করি এর ফলে তুমি নিজের ও আমার পাপভার বহন করে জাহানণামবাসী হবে। আর সেটাই হ’ল যালেমদের কর্মফল।
অতঃপর তার প্রবৃত্তি তাকে ভ্রাতৃহত্যায় প্ররোচিত করল এবং তাকে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
অতঃপর আল্লাহ একটি কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খুঁড়তে লাগলো যাতে সে তাকে দেখিয়ে দেয় কিভাবে সে তার ভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করবে। সে বলল, হায় আফসোস! আমি কি এই কাকটির সমানও হ’তে পারলাম না, যে আমি আমার ভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করতে পারি? অতঃপর সে অনুতপ্ত হ’ল।
কেবল এ কারণেই আমরা বনু ইস্রাঈলের উপর বিধিবদ্ধ করেছিলাম যে, যে কেউ প্রাণের বদলে প্রাণ অথবা জনপদে অনর্থ সৃষ্টি করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করল, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারু প্রাণ রক্ষা করে, সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। বস্ত্তত তাদের নিকট আমাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করেছিল। এরপরেও তাদের অনেকে জনপদে বিপর্যয় ঘটিয়েই চলেছে।
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটা তাদের জন্য দুনিয়াবী লাঞ্ছনা। আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
কিন্তু তোমরা তাদের উপর প্রবল হওয়ার পূর্বে যারা তওবা করে, তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও তাঁর নৈকট্য সন্ধান কর। আর আল্লাহ্র পথে জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাসী, তাদের কাছে যদি পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ ও তার দ্বিগুণ সম্পদ থাকে এবং সেগুলির বিনিময়ে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি চায়, তবুও তাদের কাছ থেকে তা কবুল করা হবে না। বস্ত্তত তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তারা জাহান্নাম থেকে বের হ’তে চাইবে, কিন্তু তা পারবে না। বরং তাদের জন্য থাকবে চিরস্থায়ী শাস্তি।
চোর পুরুষ হৌক বা নারী হৌক তার হাত কেটে দাও তার কৃতকর্মের ফল স্বরূপ। আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে এটাই তার দন্ড। আর আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালংঘনের পর তওবা করে ও সংশোধিত হয়, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ্রই জন্য সকল রাজত্ব আসমানে ও যমীনে। তিনি যাকে খুশী শাস্তি দেন ও যাকে খুশী ক্ষমা করেন। আর আল্লাহ সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
হে রাসূল! তোমাকে যেন মর্মাহত না করে ঐসব লোকেরা, যারা দ্রুত কুফরীর (মুনাফেকীর) দিকে ধাবিত হয়। যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি, অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি। আর ইহূদীদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা মিথ্যা বলার জন্য (তোমার কথা) কান লাগিয়ে শোনে। ওরা অন্যদের গুপ্তচর, যারা তোমার কাছে আসে না। ওরা (তাওরাতের) শব্দ সমূহ স্ব স্ব স্থান থেকে সরিয়ে নেয়। তারা বলে, যদি তোমাদের এই নির্দেশ (অর্থাৎ ব্যভিচারে বেত্রাঘাতের মত লঘু দন্ড) দেওয়া হয়, তাহ’লে গ্রহণ কর। আর যদি তা না দেওয়া হয় (অর্থাৎ রজমের আদেশ দেওয়া হয়), তাহ’লে বিরত থেকো। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে পরীক্ষায় ফেলতে চান, তার জন্য তোমার কিছুই করার নেই। এরা হ’ল সেই সব লোক, যাদের অন্তর সমূহকে আল্লাহ পবিত্র করতে চান না। এদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখেরাতে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
তারা মিথ্যা কবুলে যেমন অভ্যস্ত, হারাম খাওয়ায় তেমনি অভ্যস্ত। অতএব যদি তারা তোমার কাছে আসে, তাহ’লে হয় তুমি তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, নয় তাদের থেকে বিরত হও। যদি তুমি তাদের থেকে বিরত থাক, তাহ’লে তারা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি মীমাংসা কর, তবে ইনছাফের সাথে কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালবাসেন।
আর কিভাবে তারা তোমাকে মীমাংসাকারী বানাবে? অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে। যেখানে আল্লাহ্র বিধান সমূহ রয়েছে। এরপর তারা (তোমার থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বস্ত্তত ওরা (তোমার উপর) আদৌ বিশ্বাসী নয়।
আমরা তাওরাত নাযিল করেছিলাম। যাতে ছিল পথের সন্ধান ও জ্যোতি। তার মাধ্যমে আল্লাহ্র আজ্ঞাবহ নবীগণ, আল্লাহওয়ালাগণ ও আলেমগণ ইহূদীদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিতেন। কেননা তাদেরকে আল্লাহ্র কিতাবের হেফাযতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারাও এতে সাক্ষী ছিল। অতএব তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না। বস্ত্তত যারা আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা করে না, তারাই কাফের।
আর আমরা তাদের উপর বিধিবদ্ধ করেছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং যখম সমূহের বদলে যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সেটি তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়। বস্ত্তত যারা আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা করে না, তারাই যালেম।
অতঃপর আমরা তাদের পরে মারিয়াম-পুত্র ঈসাকে প্রেরণ করেছিলাম তার পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসাবে এবং তাকে প্রদান করেছিলাম ইনজীল, যাতে ছিল হেদায়াত ও জ্যোতি। যা ছিল পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আল্লাহভীরুদের জন্য সুপথ প্রদর্শনকারী ও উপদেশ স্বরূপ।
ইনজীলের অনুসারীদের উচিৎ ছিল আল্লাহ তাতে যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী ফায়ছালা করা। বস্ত্তত যারা আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা করে না, তারাই ফাসেক।
আর আমরা তোমার নিকট এ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি সত্য সহকারে যা তার পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী ও হেফাযতকারী। অতএব তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা কর এবং তোমার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে ওদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমরা পৃথক পৃথক বিধান ও পন্থা নির্ধারণ করেছি। আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে তিনি এক দলভুক্ত করে দিতেন। কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে যে বিধানসমূহ দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নিতে। অতএব তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্যের কর্মসমূহে প্রতিযোগিতা কর। (মনে রেখ) আল্লাহ্র নিকটেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।
আর তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা করবে এবং তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবে না। আর তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, যেন তারা তোমাকে আল্লাহ প্রেরিত কোন বিধানের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে না ফেলে। কিন্তু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখ যে, আল্লাহ চান তাদেরকে তাদের কিছু কিছু পাপের দরুন (পার্থিব জীবনে) শাস্তি দিতে। আর নিশ্চিতভাবে বহু লোক রয়েছে পাপাচারী।
তবে কি তারা ফের জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? অথচ দৃঢ় বিশ্বাসীদের নিকট আল্লাহ্র চাইতে উত্তম বিধানদাতা আর কে আছে?
হে মুমিনগণ! তোমরা ইহূদী-নাছারাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদের মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
অতঃপর তুমি দেখবে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা দ্রুত তাদের মধ্যে প্রবেশ করবে আর বলবে, আমাদের ভয় হয়, না জানি আবার কোন বিপদ এসে পড়ে। অতএব নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তাঁর পক্ষ হ’তে কোন বিজয় অথবা নির্দেশ (জিযিয়া) নিয়ে আগমন করলে নিশ্চিতভাবে তারা তাদের হৃদয়ে লুকানো দূরভিসন্ধির কারণে লজ্জিত হবে।
আর মুসলমানেরা বলবে, আরে এরাই তো তারা যারা আল্লাহ্র নামে দৃঢ় শপথ করত যে তারা তোমাদের সাথেই আছে। তাদের সমস্ত কর্ম নিষ্ফল হ’ল। ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হ’ল।
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যদি কেউ স্বধর্ম থেকে ফিরে যায়, তাহ’লে আল্লাহ সত্বর এমন একটি দল এনে দিবেন, যাদেরকে আল্লাহ ভালবাসবেন ও তারা আল্লাহকে ভালবাসবে। যারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়ী হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। যারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দাবাদকে পরোয়া করবে না। এটি আল্লাহ্র অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন। বস্ত্তত আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ব্যতীত কেউ নয়। যারা ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং তারা হয় বিনয়ী।
আর যে ব্যক্তি বন্ধুত্ব রাখে আল্লাহ্র সাথে, তাঁর রাসূলের সাথে ও মুমিনদের সাথে (সে জেনে রাখুক যে) নিশ্চয়ই আল্লাহ্র দলই বিজয়ী।
হে মুমিনগণ! তোমাদের পূর্বে যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের দ্বীনকে খেল-তামাশার বস্ত্ত মনে করে, তাদের ও কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।
আর যখন তোমরা ছালাতের জন্য (আযানের মাধ্যমে) আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলাচ্ছলে গ্রহণ করে। কারণ ওরা একেবারেই নির্বোধ সম্প্রদায়।
বল, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কি আমাদের উপর প্রতিশোধ নিতে চাও কেবল এজন্য যে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আল্লাহ্র উপর এবং আমাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের উপর ও ইতিপূর্বে অবতীর্ণ কিতাব সমূহের উপর? আর এ কারণে যে তোমাদের অধিকাংশ লোক পাপাচারী?
বল, আমি কি তোমাদেরকে তার চাইতে অধিক নিকৃষ্ট পরিণতির খবর দিব যা আল্লাহ্র নিকটে রয়েছে? যাদেরকে আল্লাহ লা‘নত করেছেন ও তাদের উপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যেকার কিছু লোককে বানর, শূকর ও শয়তানের পূজারী করেছেন। ওরাই হ’ল নিকৃষ্টতম স্থানের অধিকারী এবং সরল পথ হ’তে সর্বাধিক বিচ্যুত।
আর (মুনাফিকরা) যখন তোমাদের কাছে আসে, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। অথচ তারা প্রবেশ করেছিল কুফর নিয়ে এবং বের হয়েছিল কুফর নিয়ে। বস্ত্তত আল্লাহ ভালভাবেই জানেন যা তারা গোপন করে।
আর তুমি তাদের মধ্যে এমন অনেককে দেখবে, যারা পাপকাজে, সীমালংঘনে ও হারাম ভক্ষণে প্রতিযোগিতা করে। কতই না মন্দ কাজ তারা করে!
কেন তাদের আল্লাহওয়ালাগণ ও আলেমগণ তাদেরকে তাদের পাপের কথা হ’তে ও হারাম ভক্ষণ হ’তে নিষেধ করে না? কতই না মন্দ কাজ তারা করছে।
ইহূদীরা বলে, আল্লাহ্র হাত মুষ্টিবদ্ধ। বরং তাদের হাতগুলিই বদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের এই কথার দরুণ তারা অভিশপ্ত হয়েছে। বরং তাঁর দু’হাত প্রসারিত। যেভাবে খুশী তিনি বিতরণ করেন। আর তোমার প্রতি তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে যে অনুগ্রহ নাযিল হয়, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও অবিশ্বাস বৃদ্ধির কারণ হয়। আমরা তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ নিক্ষেপ করে দিয়েছি ক্বিয়ামত পর্যন্ত। যখনই তারা (মুমিনদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করতে চায়, তখনই আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা পৃথিবীতে অশান্তি ছড়িয়ে বেড়ায়। অথচ আল্লাহ বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের পসন্দ করেন না।
যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনতো ও আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তাহ’লে আমরা অবশ্যই তাদের সকল পাপ মোচন করে দিতাম এবং তাদেরকে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।
আর যদি তারা যথাযথভাবে আমল করত তাওরাত ও ইনজীলের উপর এবং যা তাদের প্রভুর পক্ষ হ’তে তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার উপর (অর্থাৎ কুরআন), তাহ’লে তারা উপর থেকে ও পায়ের নীচ থেকে রূযী ভক্ষণ করত। তাদের মধ্যেকার একদল রয়েছে মধ্যপন্থী। কিন্তু তাদের বহু লোক মন্দকাজ করে থাকে।
হে রাসূল! তোমার প্রতি তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে যা নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন), তা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। যদি না দাও, তাহ’লে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
বলে দাও, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কোন কিছুর উপরেই প্রতিষ্ঠিত নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত, ইনজীল ও যে কিতাব (কুরআন) তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তা যথাযথভাবে কায়েম কর। আর তোমার প্রতি তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে যা নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন), তা অবশ্যই তাদের অনেকের মধ্যে অবাধ্যতা ও অবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে। সুতরাং তুমি অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের উপর মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না।
নিশ্চয় মুসলিম, ইহূদী, ছাবেঈ ও নাছারা যারা আল্লাহ ও ক্বিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা কোনরূপ চিন্তান্বিত হবে না।
আমরা বনু ইস্রাঈলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম ও তাদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর যখনই তাদের নিকট কোন রাসূল আগমন করত এমন কোন বিধান নিয়ে যা তাদের মনঃপূত হ’তো না, তখনই তাদের একদলকে তারা মিথ্যারোপ করত এবং একদলকে তারা হত্যা করে ফেলত।
তারা ধারণা করেছিল যে, তাদের কোন পরীক্ষা হবে না। ফলে তারা (সত্য থেকে) অন্ধ ও বধির হয়ে থাকল। অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। ফের তাদের অনেকে অন্ধ ও বধির হয়ে গেল। বস্ত্তত তারা যা কিছু করে আল্লাহ সবই দেখেন।
নিশ্চিতভাবে তারা কাফের হয়ে গেছে যারা বলে, আল্লাহ তো মারিয়ম-পুত্র মসীহ। অথচ মসীহ বলেছিল হে বনু ইস্রাঈলগণ! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর যিনি আমার রব ও তোমাদের রব। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্যকে শরীক করে, আল্লাহ অবশ্যই তার উপরে জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম। আর যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
নিশ্চিতভাবে তারা কাফের হয়ে গেছে, যারা বলে আল্লাহ তিন উপাস্যের তৃতীয়জন। অথচ এক উপাস্য (আল্লাহ) ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা থেকে যদি তারা বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি গ্রাস করবে।
এরপরেও কি তারা আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসবে না (অর্থাৎ তওবা করবে না) ও তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
মারিয়ম-পুত্র মসীহ (ঈসা) একজন রাসূল ব্যতীত নন। তার পূর্বেও বহু রাসূল গত হয়েছে। আর তার মা ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ মহিলা। তারা উভয়ে (ক্ষুধায়) অন্ন ভক্ষণ করত। দেখ, কিভাবে আমরা তাদের নিকট আয়াতসমূহ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছি। অতঃপর দেখ, তারা বিভ্রান্ত হয়ে কোথায় ঘুরছে!
বল, তোমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর পূজা কর, যারা তোমাদের না কোন ক্ষতি করতে পারে, না কোন উপকার করতে পারে? বস্ত্তত আল্লাহই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
তুমি বল, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না এবং ঐসব লোকদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে ও বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং নিজেরা সরল পথ থেকে বিচ্যুৎ হয়েছে।
বনু ইস্রাঈলের মধ্যে যারা কাফের ছিল তাদেরকে লা‘নত করা হয়েছিল দাঊদ ও মারিয়াম-পুত্র ঈসার যবানীতে। সেটা এজন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা সীমালংঘন করত।
তারা যেসব মন্দ কাজ করত, তা থেকে কেউ কাউকে নিষেধ করত না। নিশ্চয়ই তাদের কাজগুলি ছিল অতীব নিন্দনীয়।
তুমি তাদের অনেককেই দেখবে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে। এর ফলে তারা অবশ্যই নিজেদের জন্য কত মন্দ বস্ত্তই না অগ্রিম প্রেরণ করছে, যাতে আল্লাহ তাদের উপর ক্রুদ্ধ হচ্ছেন। আর শাস্তির মধ্যেই তারা চিরকাল থাকবে।
যদি তারা (অর্থাৎ ইহূদীরা) আল্লাহ্র উপর ও তাদের নবী (মূসা)-র উপর ও তার নিকট প্রেরিত কিতাব (তাওরাত)-এর উপর ঈমান আনত, তাহ’লে তারা ঐসব মুশরিকদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অনেকেই হ’ল ফাসেক।
তুমি লোকদের মধ্যে মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা পোষণে সর্বাধিক কঠোর পাবে ইহূদী ও মুশরিকদের। পক্ষান্তরে তাদের প্রতি বন্ধুত্বের সর্বাধিক নিকটবর্তী পাবে ঐ লোকদের যারা বলে আমরা নাছারা। কারণ তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে পন্ডিত ও সংসার বিরাগী এবং তারা নিরহংকার।
আর যখন তারা শোনে যা রাসূলের প্রতি নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন), তখন তুমি তাদের চক্ষুগুলিকে দেখবে অবিরল ধারে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ঈমান এনেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে সত্যের সাক্ষ্যদাতা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও!
আমাদের কি এমন ওযর রয়েছে যে, আমরা ঈমান আনব না আল্লাহ্র উপরে এবং সেই সত্যের উপরে যা আমাদের নিকট এসেছে? অথচ আমরা আকাংখা করব যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎকর্মশীল বান্দাদের মধ্যে শামিল করবেন।
অতঃপর এই সত্য ভাষণের ফলে আল্লাহ তাদের জান্নাত দান করেন, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর সেটাই হ’ল সৎকর্মশীলদের যথাযথ প্রতিদান।
পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাসী হয়েছে ও আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত সমূহকে হারাম করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের ভালবাসেন না।
আল্লাহ তোমাদের যেসব হালাল ও পবিত্র রূযী দান করেছেন, সেখান থেকে তোমরা ভক্ষণ করো। আর আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী হয়েছ।
আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্য। কিন্তু পাকড়াও করবেন যেগুলি তোমরা দৃঢ় সংকল্পের সাথে কর। এরূপ শপথ ভঙ্গের কাফফারা হ’ল, দশজন অভাবগ্রস্তকে মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাক অথবা অনুরূপ মানের পোষাক প্রদান করা অথবা একটি ক্রীতদাস (বা দাসী) মুক্ত করা। অতঃপর যে ব্যক্তি এতে সক্ষম হবে না, সে তিনদিন ছিয়াম পালন করবে। এটাই তোমাদের শপথ সমূহের কাফফারা যখন তোমরা তা করবে। তোমরা তোমাদের শপথ সমূহ রক্ষা কর। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তার আয়াতসমূহ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বেদী ও ভাগ্যতীর সমূহ শয়তানের নাপাক কর্ম বৈ কিছুই নয়। অতএব এগুলি হ’তে বিরত থাক। যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
শয়তান তো কেবল চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহ্র স্মরণ ও ছালাত হ’তে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব তোমরা নিবৃত্ত হবে কি?
আর তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য কর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং (হারাম থেকে) সতর্ক হও। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহ’লে জেনে রাখ যে, আমাদের রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, তারা পূর্বে যা (মদ) ভক্ষণ করেছে, তার জন্য তাদের উপর কোন দোষ বর্তাবে না, যখন তারা ভবিষ্যতে সংযত হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে। অতঃপর পুনরায় তারা সংযত হয় ও ঈমান আনে। অতঃপর আবারও সংযত হয় ও সৎকর্ম করে। বস্ত্তত আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদেরকে এমন কিছু শিকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যাদেরকে তোমাদের হাত ও বর্শা সহজে নাগাল পায়। যাতে আল্লাহ জানতে পারেন কে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে না দেখে ভয় করে? অতঃপর যে ব্যক্তি এরপরেও সীমালংঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুহরিম অবস্থায় কোন শিকারকে হত্যা করো না। তোমাদের মধ্যে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সেটাকে হত্যা করবে, তাদের উপর ফিদইয়া ওয়াজিব হবে ঐ প্রাণীর সমতুল্য একটি প্রাণী যেটিকে সে হত্যা করেছে। আর সমতুল্য নির্ধারণের বিষয়টি ফায়ছালা করবে তোমাদের মধ্যকার দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি। অতঃপর ফিদইয়ার প্রাণীটিকে কুরবানী হিসাবে কা‘বায় পৌঁছাতে হবে। অথবা কাফফারা হিসাবে অভাবগ্রস্তদের খাদ্য প্রদান করবে অথবা কাফফারার বদলে সমপরিমাণ ছিয়াম পালন করবে, যাতে সে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে পারে। ইতিপূর্বে যা হয়ে গেছে তা আল্লাহ মাফ করেছেন। তবে যে ব্যক্তি পুনরায় একাজ করবে, আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ নিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
তোমাদের মুক্বীম ও মুসাফিরদের জন্য ভোগ্যবস্ত্ত হিসাবে সমুদ্রের শিকার ও সামুদ্রিক খাদ্য হালাল করা হ’ল। আর স্থল ভাগের শিকার তোমাদের জন্য হারাম করা হ’ল যতক্ষণ তোমরা মুহরিম অবস্থায় থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার নিকটে তোমাদের সবাইকে একত্রিত করা হবে।
সম্মানিত কা‘বাগৃহকে, সম্মানিত (যিলহজ্জ) মাসকে এবং কুরবানীর পশু সমূহকে ও উক্ত উদ্দেশ্যে প্রেরিত গলাবন্ধ পরিহিত পশু সমূহকে আল্লাহ মানুষের জন্য কল্যাণ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এটা এজন্য যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আসমান ও যমীনে (যা কিছু কল্যাণ) সবকিছু আল্লাহ ভালভাবেই জানেন।
তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
রাসূলের উপর কোন দায়িত্ব নেই কেবল দাওয়াত পৌঁছানো ব্যতীত। বস্ত্তত আল্লাহ ভালভাবে জানেন যা কিছু তোমরা প্রকাশ কর ও যা কিছু তোমরা গোপন কর।
বলে দাও! মন্দ ও ভালো সমান নয়। যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। অতএব হে জ্ঞানীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশ পেলে তা তোমাদের কষ্ট দিবে। আর যদি কুরআন অবতরণ কালে তোমরা প্রশ্ন কর, তাহ’লে সেটা তোমাদের জন্য প্রকাশ করে দেওয়া হবে। তোমাদের অতীতের জিজ্ঞাসাবাদ সমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অতীব সহনশীল।
তোমাদের পূর্বেকার সম্প্রদায় এরূপ প্রশ্ন করেছিল। অতঃপর সেকারণে তারা কাফের হয়ে গিয়েছিল।
আল্লাহ বাহীরাহ, সায়েবাহ, অছীলাহ ও হামী-র প্রচলন করেননি। বরং কাফেররাই এ ব্যাপারে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে। আর তাদের অধিকাংশই কোন জ্ঞান রাখে না।
আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সেদিকে এবং রাসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে আমাদের জন্য তাই-ই যথেষ্ট, যার উপরে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছু জানত না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না।
হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের কাজ করে যাও। পথভ্রষ্টরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, যখন তোমরা সৎপথে থাকবে। আল্লাহ্র নিকটেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কারু যখন মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়, তখন অছিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্যকার ন্যায়নিষ্ঠ দু’জনকে সাক্ষী রাখো। যদি তোমরা সন্দেহে পতিত হও, তাহ’লে সাক্ষীদ্বয়কে ছালাতের পরে থাকতে বল ও উভয়ের নিকট থেকে আল্লাহ্র নামে শপথ নাও যে, আমরা এর বিনিময়ে কোন স্বার্থ হাছিল করব না। যদিও সে নিকটাত্মীয় হয় এবং আমরা আল্লাহ্র নামের এ সাক্ষ্য গোপন করব না। যদি করি, তাহ’লে আমরা পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।
অতঃপর যদি জানা যায় যে, অছীদ্বয় (সাক্ষীদ্বয়) কোন পাপে (খেয়ানতে) জড়িয়ে পড়েছে, তাহ’লে যাদের বিপক্ষে ঐ দু’জন পাপে জড়িত হয়ে পড়েছিল সেই ওয়ারিছদের মধ্য হ’তে (মাইয়েতের) সর্বাধিক নিকটবর্তী দু’জন তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর উভয়ে আল্লাহ্র নামে শপথ করবে যে, আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্য অপেক্ষা অধিক সত্য এবং আমরা এতে আদৌ বাড়াবাড়ি করিনি। যদি করে থাকি, তাহ’লে আমরা অবশ্যই যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হব।
এটাই এ বিষয়ে সবচেয়ে সহজ পন্থা যে, তারা যথাযথভাবে সাক্ষ্য প্রদান করবে অথবা ভয় পাবে যে, তাদের কাছ থেকে শপথ নেয়ার পর পুনরায় শপথ নেওয়া হবে। অতএব তোমরা (সাক্ষ্য দানে) আল্লাহকে ভয় কর এবং (তাঁর বিধান সমূহ) শ্রবণ কর। বস্ত্তত আল্লাহ ফাসেকদের সুপথ প্রদর্শন করেন না।
(স্মরণ কর!) যেদিন আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে একত্রিত করবেন। অতঃপর বলবেন, তোমরা তোমাদের উম্মতগণের নিকট থেকে কি জবাব পেয়েছিলে? তারা বলবে, আমাদের জানা নেই। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত।
যখন আল্লাহ বলবেন, হে মারিয়াম-পুত্র ঈসা! তোমার ও তোমার মায়ের প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর। যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মা (জিব্রীল) দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম। আর তুমি (মায়ের সতীত্বের পক্ষে) কথা বলেছ মাতৃক্রোড়ে এবং পরিণত বয়সে (রাসূল হওয়ার পরে)। আর স্মরণ কর যখন আমি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং তাওরাত ও ইনজীল। আর (স্মরণ কর,) যখন তুমি মাটি দ্বারা পাখির আকৃতি তৈরী করে তাতে ফুঁক দিতে আমার অনুমতিক্রমে, ফলে তা পাখি হয়ে যেত আমার অনুমতিক্রমে এবং তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে দিতে আমার অনুমতিক্রমে। আর (স্মরণ কর) যখন তুমি মৃতদের (জীবিত) বের করে আনতে আমার অনুমতিক্রমে। আর (স্মরণ কর) যখন আমি বনু ইস্রাঈলগণকে (তোমাকে হত্যা করা থেকে) নিবৃত্ত করেছিলাম যখন তুমি তাদের কাছে (নবুঅতের) স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলে। অতঃপর তাদের অবিশ্বাসীরা বলেছিল, এগুলি (মু‘জেযা সমূহ) স্পষ্ট জাদু ব্যতীত কিছুই নয়।
আর (হে ঈসা! তুমি স্মরণ কর) যখন আমি হাওয়ারীদের অন্তরে জাগ্রত করে দিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তখন তারা বলল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা পূর্ণ আনুগত্যশীল।
(স্মরণ কর) যখন হাওয়ারীরা বলেছিল, হে মারিয়াম-পুত্র ঈসা! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নামিয়ে দিতে পারেন? ঈসা বলল, তোমরা (এরূপ অন্যায় দাবী করা থেকে) আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক।
তারা বলল, আমরা তা থেকে খেতে চাই। তাতে আমাদের অন্তর সমূহ প্রশান্ত হবে এবং আমরা জানব যে, আপনি আমাদেরকে সত্য বলেছেন এবং আমরা এ ব্যাপারে সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাব।
মারিয়ম-পুত্র ঈসা বলল, হে আল্লাহ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নামিয়ে দিন। যা আমাদের এখনকার ও পরবর্তীকালের ঈমানদারদের জন্য বার্ষিক উৎসবের কারণ হবে এবং আপনার পক্ষ হ’তে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদেরকে রিযিক দান করুন। কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
আল্লাহ বললেন, আমি এটা তোমাদের প্রতি নাযিল করব। অতঃপর যে ব্যক্তি এরপরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
আর তুমি (স্মরণ কর) যেদিন আল্লাহ বলবেন, হে মারিয়াম-পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের একথা বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাকে দুই উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করো? সে বলবে, আপনি (শরীক হ’তে) পবিত্র। আমার জন্য এটা শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে তা অবশ্যই আপনি জানেন। আপনি আমার মনের কথা জানেন, কিন্তু আমি আপনার মনের কথা জানি না। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয় সমূহে সর্বাধিক জ্ঞাত।
আমি তাদেরকে কিছুই বলিনি এটা ব্যতীত যা আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্র দাসত্ব কর, যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা। আর আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু যখন আপনি আমাকে ওফাত দিয়েছেন, তখন থেকে আপনিই তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনি সকল বিষয়ে সাক্ষী।
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তাহ’লে তারা আপনার বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তাহ’লে আপনি মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আল্লাহ বলবেন, এটা সেই দিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের কাজে আসবে। তারা জান্নাত প্রাপ্ত হবে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট। আর এটাই হ’ল মহা সফলতা।
আল্লাহ্র জন্যই রাজত্ব নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুতে। আর তিনি সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।