بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম মীম (এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ সর্বাধিক অবগত)।
এই কিতাব, যাতে কোনই সন্দেহ নেই। যা আল্লাহভীরুদের জন্য পথ প্রদর্শক।
যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও ছালাত কায়েম করে এবং আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ঐসব বিষয়ে, যা তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা তোমার পূর্ববর্তীগণের প্রতি নাযিল হয়েছিল। আর যারা আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে।
এরাই হ’ল তাদের প্রতিপালকের প্রদর্শিত পথের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই হ’ল সফলকাম।
নিশ্চয় যারা অবিশ্বাসী হয়েছে, তাদেরকে তুমি সতর্ক কর বা না কর উভয়টিই সমান; ওরা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
আল্লাহ ওদের হৃদয়ে ও কর্ণে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং ওদের চক্ষুসমূহের উপর রয়েছে আবরণ। আর ওদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
লোকদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা বলে আমরা আল্লাহ ও বিচার দিবসে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অথচ তারা বিশ্বাসী নয়।
তারা আল্লাহ ও ঈমানদারগণের সাথে প্রতারণা করে। অথচ এর মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সাথেই প্রতারণা করে। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনা।
তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি তাদের মিথ্যাচারের কারণে।
যখন তাদের বলা হয়, তোমরা জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরা তো শান্তিকামী বৈ কিছু নই।
সাবধান! ওরাই হ’ল অশান্তি সৃষ্টিকারী। কিন্তু ওরা তা বুঝতে পারে না।
যখন তাদের বলা হয়, তোমরা ঈমান আনো যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে, তখন তারা বলে আমরা কি ঈমান আনব, যেমন নির্বোধেরা ঈমান এনেছে? সাবধান! ওরাই আসলে নির্বোধ। কিন্তু ওরা তা জানে না।
আর যখন তারা ঈমানদারগণের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তারা তাদের শয়তানদের সঙ্গে নিরিবিলি হয়, তখন বলে আমরা তোমাদের সাথেই আছি। আমরা তো ওদের সঙ্গে কেবল উপহাস করি মাত্র।
আল্লাহ তাদের উপহাসের বদলা দেন এবং তাদের অবকাশ দেন যাতে তারা তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরে।
ওরা হ’ল তারাই যারা হেদায়াতের বদলে গোমরাহীকে খরীদ করেছে। কিন্তু তাদের এ ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়নি।
তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে আগুন জ্বালালো। অতঃপর যখন তা চারদিক আলোকিত করল, তখন আল্লাহ সে আলো ছিনিয়ে নিলেন ও তাদেরকে এমন গাঢ় অন্ধকারে নিক্ষেপ করলেন যে তারা আর কিছুই দেখতে পায় না।
ওরা বধির, বোবা ও অন্ধ। ফলে ওরা ফিরে আসবে না।
অথবা তাদের দৃষ্টান্ত আকাশ জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণের ন্যায়, যার মধ্যে থাকে ঘন অন্ধকার, বজ্রনিনাদ ও বিদ্যুতের চমক। গর্জনে মৃত্যুর ভয়ে তারা তাদের কানে আঙ্গুল দেয়। বস্ত্তত আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে (ভ্রান্তির মধ্যে) বেষ্টন করে রাখেন।
বিদ্যুতের চমক যেন তাদের দৃষ্টিকে হরণ করে নিবে। যখনই তাদের প্রতি সামান্য আলোকসম্পাত হয়, তখনই তারা তাতে কিছু পথ চলে। আর যখনই অন্ধকার হয়ে যায়, তখনই তারা থমকে দাঁড়ায়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তাদের শ্রবণ ও দর্শনশক্তি হরণ করে নিতেন। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দাসত্ব কর। যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা (জাহান্নাম থেকে) বাঁচতে পারো।
যিনি তোমাদের জন্য ভূ-পৃষ্ঠকে বিছানা স্বরূপ ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ করেছেন এবং যিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-শস্যাদি উৎপাদন করেন। অতএব তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করো না।
আর যদি তোমরা তাতে সন্দেহে পতিত হও, যা আমরা আমাদের বান্দার উপর নাযিল করেছি, তাহ’লে অনুরূপ একটি সূরা তোমরা রচনা করে নিয়ে এসো। আর (একাজে) আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের যত সহযোগী আছে সবাইকে ডাকো, যদি তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হও। (চ্যালেঞ্জ-১)
কিন্তু যদি তোমরা তা না পারো, আর কখনোই তা পারবে না, তাহ’লে তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো, যার ইন্ধন হ’ল মানুষ ও পাথর। যা প্রস্ত্তত করা হয়েছে অবিশ্বাসীদের জন্য।
পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দাও, যার তলদেশ দিয়ে নদী সমূহ প্রবাহিত। যখন তারা সেখানে কোন ফল খাদ্য হিসাবে পাবে, তখন বলবে, এটা তো সেইরূপ, যা আমরা ইতিপূর্বে পেয়েছিলাম। এভাবে তাদেরকে দেওয়া হবে দুনিয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ খাদ্যসমূহ। এছাড়া তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্রা স্ত্রীগণ এবং সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল।
নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাবোধ করেন না মশা বা তদপেক্ষা ক্ষুদ্রতর কোন বস্ত্তর উপমা দিতে। অতঃপর যারা মুমিন, তারা জানে যে, এটি যথার্থ উপমা, যা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে। পক্ষান্তরে যারা কাফের, তারা বলে যে, এরূপ উপমা দিয়ে আল্লাহ কি বুঝাতে চান? বস্ত্তত এর দ্বারা আল্লাহ অনেককে পথভ্রষ্ট করেন ও অনেককে সুপথ প্রদর্শন করেন। আর এর দ্বারা তিনি পাপাচারীদের ব্যতীত কাউকে বিপথগামী করেন না ।
যারা আল্লাহ্র সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং ঐসব সম্পর্ক ছিন্ন করে যা অটুট রাখতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারাই হ’ল ক্ষতিগ্রস্ত।
কিভাবে তোমরা আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। আবার তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তিনি তোমাদের জীবিত করবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীতে যা আছে সবকিছু। অতঃপর তিনি মনঃসংযোগ করেন আকাশের দিকে। অতঃপর তাকে বিন্যস্ত করেন সপ্ত আকাশে। বস্ত্তত তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করব। তারা বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে কেবল অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই তো সর্বদা আপনার গুণগান করছি ও পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।
অতঃপর আল্লাহ আদমকে সকল বস্ত্তর নাম শিক্ষা দিলেন। অতঃপর সেগুলিকে ফেরেশতাদের সম্মুখে পেশ করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে এগুলির নাম বলো, যদি তোমরা (তোমাদের কথায়) সত্যবাদী হও।
তারা বলল, সকল পবিত্রতা আপনার জন্য। আমাদের কোন জ্ঞান নেই, যতটুকু আপনি আমাদের শিখিয়েছেন ততটুকু ব্যতীত। নিশ্চয় আপনি মহা বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি এদেরকে ঐসবের নামগুলি বলে দাও। অতঃপর যখন আদম তাদেরকে ঐসবের নামগুলি বলে দিল, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আসমান ও যমীনের অদৃশ্য বিষয় সমূহ আমি সর্বাধিক অবগত এবং তোমরা যেসব বিষয় প্রকাশ কর ও যেসব বিষয় গোপন কর, সকল বিষয়ে আমি সম্যক অবহিত।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। তখন তারা সবাই সিজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে অস্বীকার করল ও দম্ভ করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
আর আমরা বললাম, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে অবস্থান কর এবং সেখান থেকে যা খুশী খাও। কিন্তু তোমরা এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না। তাহ’লে তোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
অতঃপর শয়তান তাদেরকে ঐ বৃক্ষের কারণে পদস্খলিত করল। অতঃপর তারা যে সুখ-শান্তির মধ্যে ছিল সেখান থেকে সে তাদেরকে বের করে আনলো। তখন আমরা বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পরে শত্রু। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে রয়েছে আবাসস্থল ও ভোগ-উপকরণ সমূহ নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত।
অতঃপর আদম স্বীয় প্রতিপালকের নিকট থেকে কিছু কথা শিখে নিল। অতঃপর তিনি তার তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও অসীম দয়ালু।
আমরা বললাম, তোমরা সবাই জান্নাত থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার নিকট থেকে তোমাদের নিকটে কোন হেদায়াত পৌঁছবে, তখন যারা আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
আর যারা অবিশ্বাস করবে ও আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
হে ইস্রাঈল সন্তানগণ! তোমরা তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সমূহের কথা স্মরণ কর এবং তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তাহ’লে আমিও তোমাদেরকে দেওয়া আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর।
আর তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর এই কিতাবের উপর, যা আমি নাযিল করেছি তোমাদের কিতাবের সত্যায়নকারী হিসাবে এবং তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতসমূহকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করো না। আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর।
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্যকে গোপন করো না।
তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর।
তোমরা কি লোকদের সৎকাজের আদেশ দাও এবং নিজেদের বেলায় তা ভুলে যাও? অথচ তোমরা আল্লাহ্র কিতাব (তাওরাত) পাঠ করে থাকো। তোমরা কি বুঝো না?
তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে আল্লাহ্র সাহায্য প্রার্থনা কর। আর এটি বিনীত বান্দাগণ ব্যতীত অন্যদের পক্ষে অবশ্যই কঠিন।
যারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তাঁর কাছেই তারা ফিরে যাবে।
হে ইস্রাঈল সন্তানগণ! তোমরা তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সমূহের কথা স্মরণ কর এবং (স্মরণ কর) তোমাদেরকে আমি যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম (সমকালীন) পৃথিবীর উপর।
আর তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারু কোন উপকারে আসবে না এবং কারু পক্ষে কোন সুফারিশ কবুল করা হবে না। কারু কাছ থেকে কোনরূপ বিনিময় নেওয়া হবে না এবং কেউ কোন সাহায্য পাবে না।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদেরকে ফেরাঊনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। যারা তোমাদের নির্মমভাবে শাস্তি দিত। তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের যবহ করত ও কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখত। বস্ত্তত এর মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে ছিল এক মহা পরীক্ষা।
আর (স্মরণ কর) যেদিন আমরা তোমাদের জন্য নদীকে বিভক্ত করেছিলাম। অতঃপর তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম ও ফেরাঊন বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলাম, যা তোমরা স্বচক্ষে দেখেছিলে।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা মূসার সাথে ওয়াদা করেছিলাম চল্লিশ দিনের। অতঃপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস পূজা শুরু করেছিলে। এমতাবস্থায় তোমরা সীমালংঘনকারী ছিলে।
অতঃপর এর পরেও আমরা তোমাদের ক্ষমা করি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা মূসাকে কিতাব ও ফুরক্বান দান করি, যাতে তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও।
আর (স্মরণ কর) যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই তোমরা গোবৎস পূজার মাধ্যমে নিজেদের উপর যুলুম করেছ। অতএব এখন তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট তওবা কর এবং (শাস্তি স্বরূপ) পরস্পরকে হত্যা কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট। অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও দয়াবান।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমরা বলেছিলে হে মূসা! আমরা কখনোই তোমার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাব। তখন এক প্রচন্ড নিনাদ তোমাদের পাকড়াও করল, যা তোমরা দেখেছিলে।
অতঃপর আমরা তোমাদের পুনর্জীবিত করলাম তোমাদের মৃত্যুর পর। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আর আমরা তোমাদের উপর মেঘমালা দিয়ে ছায়া করেছিলাম এবং তোমাদের জন্য ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছিলাম। অতএব আমরা তোমাদেরকে যে রূযী দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্ত্তসমূহ ভক্ষণ কর। বস্ত্তত তারা আমাদের উপর যুলুম করেনি, বরং তারাই নিজেদের উপর যুলুম করেছিল।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা বললাম, তোমরা এই নগরীতে (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) প্রবেশ কর। অতঃপর সেখান থেকে খুশীমত ভক্ষণ কর। আর (নগরীর) দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল ‘হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা কর’- তাহ’লে আমরা তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং অবশ্যই আমরা সৎকর্মশীলদের আরও বেশী দেব।
অতঃপর যালেমরা সে কথায় পরিবর্তন ঘটালো, যা তাদের বলা হয়েছিল। ফলে তাদের পাপাচারের বদলা হিসাবে আমরা যালেমদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি নাযিল করলাম।
আর (স্মরণ কর) যখন মূসা (তীহ প্রান্তরে) তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল, তখন আমরা বললাম, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরের উপর আঘাত কর। অতঃপর সেখান থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা নির্গত হ’ল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানির ঘাট চিনে নিল। (আমরা বললাম) তোমরা আল্লাহ্র দেওয়া রিযিক থেকে ভক্ষণ কর ও পান কর। আর তোমরা জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হিসাবে বিচরণ করো না।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমরা বললে, হে মূসা! একই ধরনের খাদ্যে আমরা কখনোই ধৈর্যধারণ করতে পারব না। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যেন তিনি আমাদের এমন সব খাদ্য দান করেন যা ভূমিতে উৎপন্ন হয়; সবজি, কাঁকুড়, গম, ডাল, পেঁয়াজ (ইত্যাদি)। মূসা বলল, তোমরা কি উত্তম বস্ত্তর পরিবর্তে নিকৃষ্ট বস্ত্ত কামনা কর? তাহ’লে তোমরা কোন এক নগরীতে চলে যাও। সেখানে তোমরা যা চাও সব পাবে। এভাবে তাদের উপর আপতিত হ’ল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। আর তারা নিজেদের উপর আল্লাহ্র শাস্তিকে ফিরিয়ে নিল। এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ্র আয়াতসমূহে অবিশ্বাস করত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। আর এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করেছিল এবং তারা সীমালংঘন করত।
নিশ্চয়ই মুমিন, ইহূদী, নাছারা ও ছাবেঈদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকটে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপরে তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদেরকে যে কিতাব আমরা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধারণ কর এবং তার মধ্যে যা আছে তা স্মরণ রাখো, যাতে তোমরা বাঁচতে পার।
এরপর পুনরায় তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে। এক্ষণে যদি তোমাদের উপর আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ না থাকত, তাহ’লে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে।
আর তাদের বিষয়ে তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ, যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারের বিষয়ে সীমালংঘন করেছিল। তখন আমরা তাদের বলেছিলাম, তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও!
অতঃপর আমরা এ ঘটনাটিকে সমসাময়িকদের জন্য ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হিসাবে এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ হিসাবে নির্ধারণ করলাম।
আর (স্মরণ কর) যেদিন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে একটা গাভী কুরবানীর আদেশ দিয়েছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা বলল, আমি আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই।
তারা বলল, তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট দো‘আ কর যেন তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন গাভীটা কেমন হবে? মূসা বলল, তিনি বলেছেন, গাভীটি এমন হবে, যা বুড়ো নয় বকনাও নয়, বরং দু’য়ের মাঝামাঝি। অতএব তোমরা যেরূপ আদিষ্ট হয়েছ, সেরূপ করে ফেল।
তারা বলল, তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট দো‘আ কর, যেন তিনি আমাদের বলে দেন গাভীটির রং কেমন হবে? মূসা বলল, তিনি বলেছেন, গাভীটি হবে গাঢ় পীত বর্ণের, যা দর্শকদের প্রীত করে।
তারা বলল, তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট দো‘আ কর, যেন তিনি আমাদের বলে দেন সেটি আসলে কিরূপ? কেননা আমাদের নিকট গাভীগুলি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর আল্লাহ চাহেন তো (এবার) আমরা অবশ্যই সুপথ প্রাপ্ত হব।
মূসা বলল, তিনি বলেছেন, গাভীটি এমন হবে যা শ্রমকাতর নয়। যা জমি চাষ করে না বা জমিতে পানি সেচ করে না। বরং যা হবে সুঠামদেহী ও নিষ্কলংক। তারা বলল, এবার তুমি সঠিক বিবরণ এনেছ। অতঃপর তারা যবহ করল। অথচ তারা সেটা করতে চাচ্ছিল না।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর সে ব্যাপারে তোমরা বিতন্ডা করছিলে। অথচ তোমরা যা গোপন করছিলে, আল্লাহ তা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।
অতঃপর আমরা বললাম, তোমরা (যবহকৃত) গাভীর দেহের একটি মাংসের টুকরা নিহত ব্যক্তির দেহে মারো। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন সমূহ প্রদর্শন করেন। যাতে তোমরা (আল্লাহ্র ক্ষমতা) হৃদয়ঙ্গম করতে পার।
অতঃপর তোমাদের অন্তরগুলি এমন কঠিন হয়ে গেল, যেন তা পাথরের মত অথবা তার চাইতে কঠিন। পাথরের মধ্যে এমনও আছে যা থেকে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়। এমনও আছে যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয়। এমনও আছে, যা আল্লাহ্র ভয়ে পতিত হয়। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে উদাসীন নন।
তোমরা কি আকাংখা কর যে তারা (ইহূদীরা) তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? অথচ তাদের মধ্যে ইতিপূর্বে একটি দল ছিল, যারা আল্লাহ্র বাণী (তাওরাত) শ্রবণ করত। অতঃপর তা অনুধাবনের পর তারা জেনে-বুঝে তাকে বিকৃত করত।
যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন নিজেরা পরস্পরে নিরিবিলি হয় তখন বলে, তোমরা কি মুসলমানদের সাথে এমন কথা বল, যা আল্লাহ তোমাদের নিকটে প্রকাশ করে দিয়েছেন? যাতে তারা এর দ্বারা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট (তোমাদের বিরুদ্ধে) দলীল পেশ করতে পারে। তোমরা কি বুঝ না?
তারা কি জানে না যে, তারা যা গোপন করে ও যা প্রকাশ করে সবই আল্লাহ জানেন?
তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যারা আল্লাহ্র কিতাবের কিছুই জানে না কেবল একটা ধারণা ব্যতীত। আর তারা স্রেফ কল্পনা করে মাত্র।
অতঃপর দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজেদের হাতে কিতাব লেখে এবং বলে যে, এটা আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে অবতীর্ণ, যাতে তারা এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। অতএব ধিক্ তাদের লেখার জন্য এবং ধিক্ তাদের উপার্জনের জন্য।
আর তারা বলে, (জাহান্নামের) আগুন আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না গণিত কয়েকটা দিন ব্যতীত। বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ্র নিকট থেকে কোন অঙ্গীকার নিয়েছ যা আল্লাহ কখনো ভঙ্গ করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহ্র নামে এমন কথা বলছ, যা তোমরা জানো না।
হ্যাঁ, যারা পাপ করে এবং পাপ তাদের বেষ্টন করে ফেলে, তারা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তারা হ’ল জান্নাতের অধিবাসী এবং সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা বনু ইস্রাঈলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারু দাসত্ব করবে না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও ইয়াতীম- মিসকীনদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলবে এবং ছালাত কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে কিছু সংখ্যক ব্যতীত। এমতাবস্থায় তোমরা অগ্রাহ্যকারী ছিলে।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদের অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পরে রক্তপাত ঘটাবে না এবং তোমাদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কার করবে না। অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষী ছিলে।
এরপরেও তোমরা পরস্পরে রক্তপাত করছ এবং তোমাদেরই একটি দলকে তাদের এলাকা থেকে বহিষ্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। তারাই যদি আবার বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তখন তোমরা বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করে দিচ্ছ। অথচ তাদের বহিষ্কার করাই ছিল তোমাদের জন্য অবৈধ। তাহ’লে কি তোমরা আল্লাহ্র কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করবে আর কিছু অংশ অবিশ্বাস করবে? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, তাদের ফলাফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত কিছুই নয়। আর ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে উদাসীন নন।
এরাই হ’ল সেই সব লোক, যারা আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে খরীদ করেছে। অতএব তাদের থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
আর নিশ্চয় আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলদের পাঠিয়েছিলাম। আর আমরা মারিয়াম-পুত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ দান করেছিলাম এবং তাকে পবিত্র রূহের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছিলাম। অতঃপর যখনই কোন রাসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছেন যা তোমাদের মনমত হয়নি, তখনই তোমরা দম্ভ করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যা বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।
আর তারা বলে, আমাদের হৃদয়গুলি আচ্ছাদিত। বরং আল্লাহ তাদের উপর লা‘নত করেছেন তাদের কুফরীর কারণে। ফলে তাদের অল্প লোকই বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে।
আর যখন তাদের কাছে আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে সেই কিতাব (কুরআন) এসে গেল, যা তাদের কিতাবের সত্যায়নকারী, অথচ ইতিপূর্বে তারা (শেষনবীর মাধ্যমে) কাফেরদের উপর বিজয় কামনা করত। অবশেষে যখন তাদের নিকট সেই কিতাব এসে গেল যা তারা চেনে, তখন তারা তাকে অস্বীকার করল। অতএব অবিশ্বাসীদের উপরে আল্লাহ্র অভিসম্পাৎ।
কতই না নিকৃষ্ট ঐ বস্ত্ত যা তারা নিজেদের জন্য খরীদ করেছে যে, তারা হঠকারিতা বশে আল্লাহ্র নাযিলকৃত বস্ত্তকে অস্বীকার করেছে। যা তিনি স্বীয় অনুগ্রহে নাযিল করেছেন বান্দাগণের মধ্যে যার উপরে তিনি চান (অর্থাৎ শেষনবীর উপর)। ফলে তারা (নিজেদের উপরে আল্লাহ্র) ক্রোধের পর ক্রোধ ফিরিয়ে নিল। বস্ত্তত অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার উপর তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর। তখন তারা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করি যা আমাদের উপর নাযিল হয়েছে। সেটা ব্যতীত তারা পরবর্তীকে (কুরআনকে) অস্বীকার করে। অথচ এ কিতাব সত্য এবং তাদের কিতাবের সত্যায়নকারী। বলে দাও, যদি তোমরা (তোমাদের কিতাবের উপর) বিশ্বাসী হয়ে থাক, তবে তোমরা কেন ইতিপূর্বে আল্লাহ্র নবীগণকে হত্যা করেছিলে?
আর তোমাদের নিকট মূসা এসেছিল সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে। অতঃপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা সীমালংঘন করে গোবৎস পূজা করেছিলে।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম ও তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর তুলে ধরেছিলাম (এবং বলেছিলাম) শক্তভাবে ধারণ কর যা আমরা তোমাদের প্রদান করেছি এবং (মন দিয়ে) কথা শোন। তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। বস্ত্তত সত্যদ্রোহিতার কারণে তাদের অন্তরে গোবৎস প্রীতি বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। বলে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক, তবে তোমাদের ঈমান তোমাদেরকে কতই না নিকৃষ্ট বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
বলে দাও যদি আখেরাতের বাসস্থান অন্যদের বাদ দিয়ে আল্লাহ্র নিকট কেবল তোমাদের জন্যই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহ’লে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হও।
বস্ত্তত কখনোই তারা তা কামনা করবে না ঐসব পাপের কারণে যা তাদের হস্তসমূহ অগ্রিম প্রেরণ করেছে। আর আল্লাহ যালেমদের বিষয়ে সম্যক অবহিত।
আর তুমি অবশ্যই তাদেরকে পাবে পার্থিব জীবনের প্রতি অন্যদের চাইতে অধিক আসক্ত, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে সে যেন হাযার বছর বেঁচে থাকে। অথচ এরূপ দীর্ঘ আয়ু তাদেরকে শাস্তি থেকে দূরে রাখতে পারবে না। বস্ত্তত তারা যা করে, সবই আল্লাহ দেখেন।
তুমি বল, কে হ’তে পারে জিব্রীলের শত্রু? সে তো আল্লাহ্র হুকুমে তোমার হৃদয়ে কুরআন নাযিল করে থাকে। যা তার পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।
যে ব্যক্তি আল্লাহ্র, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রীল ও মীকাঈলের শত্রু, নিশ্চয় আল্লাহ সেসব কাফেরদের শত্রু।
আমরা নিশ্চিতভাবেই তোমার নিকট স্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নাযিল করেছি। পাপাচারীরা ব্যতীত কেউ এগুলিকে অস্বীকার করে না।
তবে কি তারা যখনই কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হবে, তখনই তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দিবে? বরং তাদের অধিকাংশই অবিশ্বাসী।
আর যখন তাদের নিকট আল্লাহ্র পক্ষ থেকে একজন রাসূল (মুহাম্মাদ) আগমন করলেন, যিনি তাদের কিতাবের সত্যায়নকারী, তখন কিতাবধারীদের একটি দল আল্লাহ্র কিতাবকে (তাওরাতকে) তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা (শেষনবীর আগমন বিষয়ে) কিছুই জানে না।
আর তারা ঐসবের অনুসরণ করল যা সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানেরা আবৃত্তি করত। অথচ সুলায়মান কুফরী করেনি, বরং শয়তানেরাই কুফরী করেছিল। যারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। আর কিছুই অবতীর্ণ হয়নি বাবেল শহরে ফেরেশতা স্বরূপ দুই ব্যক্তি হারূত ও মারূতের উপর। তারা কাউকে শিক্ষা দিত না একথা না বলে যে, আমরা পরীক্ষা মাত্র। অতএব তুমি (জাদু শিখে) কাফের হয়ো না। অতঃপর লোকেরা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যার মাধ্যমে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিতে পারত। অথচ তারা উক্ত জাদু দ্বারা কারু কোন ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহ্র অনুমতি ব্যতীত। আর লোকেরা শিখত ঐসব বস্ত্ত, যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোন উপকার করে না। বস্ত্তত তারা ভালভাবেই জানত, যে ব্যক্তি জাদুবৃত্তি অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। আর তা অবশ্যই মন্দ, যার বিনিময়ে তারা নিজেদের (ঈমান) বিক্রি করে, যদি তারা জানত।
যদি তারা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং আল্লাহভীরু হ’ত, তাহ’লে আল্লাহ্র নিকট থেকে উত্তম পুরস্কার পেত; যদি তারা জানত।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা রা‘এনা বলো না বরং ‘উনযুরনা’ বল এবং (তাঁর) কথা শোন। আর (মনে রেখ) কাফেরদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফের তারা এবং মুশরিকরা চায় না যে, তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে কোন কল্যাণ নাযিল হৌক। অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে স্বীয় রহমতের জন্য খাছ করে নেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
আমরা কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা তা ভুলিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তদনুরূপ আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সকল কিছুর উপর ক্ষমতাশালী?
তুমি কি জানো না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব কেবল আল্লাহ্রই জন্য? আর তোমাদের জন্য আল্লাহ ব্যতীত কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।
তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে অনুরূপ প্রশ্ন করতে চাও, যেরূপ প্রশ্ন ইতিপূর্বে মূসাকে করা হয়েছিল? বস্ত্তত যে ব্যক্তি ঈমানের বদলে কুফরীকে গ্রহণ করে, সে ব্যক্তি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়।
তাদের নিকট সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর হিংসাবশতঃ কিতাবধারীদের অনেকে তোমাদেরকে ঈমান আনার পরেও কাফের বানাতে চায়। এমতাবস্থায় তোমরা ওদের ক্ষমা কর এবং এড়িয়ে চলো যতক্ষণ না আল্লাহ্র নির্দেশ এসে পড়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর। আর তোমরা নিজেদের জন্য যেসব সৎকর্ম অগ্রিম প্রেরণ কর, তা তোমরা আল্লাহ্র নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করেন।
ওরা বলে, ইহূদী বা নাছারা ব্যতীত কখনোই কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এটা ওদের কামনা মাত্র। বলে দাও তোমরা (এ বিষয়ে) প্রমাণ পেশ কর যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার চেহারাকে আল্লাহ্র জন্য সমর্পণ করেছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে, তার জন্য তার পালনকর্তার নিকটে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
আর ইহূদীরা বলে নাছারারা কোন কিছুর উপরে নেই এবং নাছারারা বলে ইহূদীরা কোন কিছুর উপরে নেই। অথচ ওরা কিতাব পাঠ করে। অন্যদিকে যারা কিছু জানে না তারাও ওদের মত কথা বলে। অতএব তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেগুলির ফায়ছালা করে দিবেন।
তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে যে আল্লাহ্র মসজিদ সমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। অথচ তাদের জন্য সেখানে প্রবেশ করা বিধেয় ছিলনা ভীত অবস্থায় ব্যতীত। তাদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখেরাতে রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি।
আর আল্লাহ্র জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। অতএব যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও সেদিকেই রয়েছে আল্লাহ্র চেহারা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।
আর তারা বলে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। অথচ তিনি এসব থেকে পবিত্র। বরং নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর অধিকারভুক্ত। সবই তাঁর অনুগত।
তিনিই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে বলেন, হও! অতঃপর তা হয়ে যায়।
আর অজ্ঞ লোকেরা বলে, আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না অথবা কেন আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে না? একইভাবে তাদের পূর্ববর্তীরাও এদের মতো বলেছিল। তাদের অন্তরগুলো পরস্পরে সাদৃশ্যপূর্ণ। বস্ত্তত আমরা নিদর্শন সমূহ বর্ণনা করি দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য।
নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছি (জান্নাতের) সুসংবাদ দাতারূপে ও (জাহান্নামের) ভয় প্রদর্শনকারী রূপে। আর তুমি জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে না।
ইহূদী-নাছারারা কখনোই তোমার উপর সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না তুমি তাদের রীতির অনুসরণ কর। বলে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ্র দেখানো পথই সঠিক পথ। আর যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তোমার নিকটে (অহি-র) জ্ঞান আসার পরেও, তাহ’লে আল্লাহ্র কবল থেকে তোমাকে রক্ষা করার মত কোন বন্ধু বা সাহায্যকারী নেই।
আমরা যাদেরকে কিতাব প্রদান করেছি, তা যারা যথাযথভাবে পাঠ করে, তারা তার (মুহাম্মাদের) উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে। আর যারা তাতে অবিশ্বাস করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
হে ইস্রাঈল সন্তানগণ! আমি তোমাদের উপর যে অনুগ্রহ করেছিলাম এবং তোমাদেরকে যে (সমসাময়িক) জগদ্বাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম, তোমরা তা স্মরণ কর।
আর তোমরা ভয় কর সেদিনকে যেদিন কেউ কোন উপকারে আসবে না এবং কারু কাছ থেকে কোনরূপ বিনিময় গ্রহণ করা হবে না। আর কোন সুফারিশ তাকে কোন ফায়েদা দিবে না এবং তারা কোনরূপ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীমকে তার প্রতিপালক কতগুলি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর সে তা পূর্ণ করল, তখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। সে বলল, আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার সীমালংঘনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা বায়তুল্লাহ-কে মানুষের জন্য মিলন কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান হিসাবে নির্ধারণ করলাম (এবং বললাম), তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে ছালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর। আর আমরা ইব্রাহীম ও ইসমাঈলের কাছে নির্দেশ পাঠালাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য, ই‘তিকাফকারীদের জন্য এবং রুকূকারী ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি এই স্থানকে শান্তির নগরীতে পরিণত কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করে তুমি তাদেরকে ফল-ফলাদি দ্বারা রূযী প্রদান কর। তিনি বললেন, যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকেও সামান্য ভোগের সুযোগ দেব, তারপর তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগে বাধ্য করব। আর সেটা কতই না নিকৃষ্ট ঠিকানা!
আর (স্মরণ কর), যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল বায়তুল্লাহ্র ভিত উঁচু করছিল, তখন তারা প্রার্থনা করেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের সন্তানদের মধ্য থেকে তোমার অনুগত একটি দল সৃষ্টি কর। আর তুমি আমাদেরকে আমাদের হজ্জের নিয়ম-কানূন সমূহ বাৎলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও দয়াময়।
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদের মধ্য থেকেই তাদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ কর, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ শিক্ষা দিবেন এবং তাদের (অন্তরসমূহকে) পরিশুদ্ধ করবেন। নিশ্চয় তুমি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে ব্যতীত, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করেছে? অথচ আমরা তাকে দুনিয়াতে মনোনীত করেছি এবং নিশ্চিতভাবে সে আখেরাতে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
যখন তার পালনকর্তা তাকে বলেছিলেন, তুমি আত্মসমর্পণ কর। সে বলেছিল, আমি বিশ্বপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।
একই অছিয়ত করেছিল ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকূবও। হে আমার সন্তানেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্মকে মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা অবশ্যই মরো না মুসলিম না হয়ে।
তোমরা কি উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকূবের মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়েছিল? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলেছিল, আমরা আপনার উপাস্যের এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব, যিনি একক উপাস্য এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ থাকব।
তারা ছিল একটি উম্মত, যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছিল, তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ, তা তোমাদের জন্য। আর তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
আর তারা বলে তোমরা ইহূদী বা নাছারা হয়ে যাও, তাহ’লে তোমরা সুপথপ্রাপ্ত হবে। তুমি বল, বরং আমরা ইব্রাহীমের একনিষ্ঠ ধর্মে অবিচল থাকব। আর তিনি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
তোমরা বল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আল্লাহ্র উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি তার উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের প্রতি এবং যা দেওয়া হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং যা দেওয়া হয়েছে নবীগণকে তাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে, সে সবের উপর। আমরা তাদের কারু মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা সকলে তাঁরই প্রতি সমর্পিত।
অতএব যদি তারা বিশ্বাস স্থাপন করে যেরূপ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছ, তাহ’লে তারা সুপথপ্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে তারা স্রেফ যিদের মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আল্লাহ্র রং। আর আল্লাহ্র রং-য়ের চাইতে উত্তম রং কার আছে? বস্ত্তত আমরা কেবল তাঁরই ইবাদতকারী।
তুমি বল, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করতে চাও? অথচ তিনি আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। বস্ত্তত আমাদের কর্ম আমাদের ও তোমাদের কর্ম তোমাদের এবং আমরা তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ।
অথবা তোমরা কি একথা বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের বংশধরগণ সবাই ইহূদী বা নাছারা ছিলেন? বলে দাও, তোমরা বেশী জানো, না আল্লাহ? আর তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ্র নিকট হ’তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য তার নিকটে থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে? বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে উদাসীন নন।
তারা ছিল একটি উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছিল, তা ছিল তাদের এবং তোমরা যা অর্জন করেছ, তা হ’ল তোমাদের। আর তাদের কৃতকর্মের জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
সত্বর নির্বোধ লোকেরা বলবে, কোন্ বস্ত্ত তাদেরকে (মুসলমানদের) ফিরিয়ে দিল তাদের ক্বিবলা থেকে যার উপরে তারা ছিল? তুমি বল, পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহ্র। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।
আর এভাবেই আমরা তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। যাতে তোমরা মানবজাতির উপরে সাক্ষ্যদাতা হও এবং রাসূল (মুহাম্মাদ) তোমাদের উপরে সাক্ষ্যদাতা হ’তে পারেন। আর যে ক্বিবলার উপরে তুমি ছিলে, সেটাকে আমরা এজন্যেই নির্ধারণ করেছিলাম যাতে আমরা জানতে পারি, কে এই রাসূলের অনুসরণ করে, আর কে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। বিষয়টি অবশ্যই কঠিন। কিন্তু তাদের জন্য নয়, যাদেরকে আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহশীল ও দয়াবান।
নিশ্চয়ই আমরা বারবার তোমার চেহারাকে আকাশের দিকে ফিরাতে দেখি। সুতরাং অবশ্যই আমরা তোমাকে সেই ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যাকে তুমি পসন্দ কর। অতএব এখন তুমি (ছালাতের সময়) মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরিয়ে দাও। আর তোমরা যেখানে থাক তোমাদের চেহারাকে সেদিকেই ফিরাও। আর যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই সত্য তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে। বস্ত্তত আল্লাহ তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আদৌ উদাসীন নন।
যদি তুমি আহলে কিতাবদের নিকট সমস্ত নিদর্শন নিয়েও উপস্থিত হও, তবুও ওরা তোমার ক্বিবলার অনুসরণ করবেনা। আর তুমিও তাদের ক্বিবলার অনুসরণ করবেনা। আর তারাও পরস্পরের ক্বিবলার অনুসারী নয়। এক্ষণে যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো তোমার কাছে নিশ্চিত জ্ঞান এসে যাওয়ার পরেও, তাহ’লে অবশ্যই তুমি সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (মুহাম্মাদকে) ভালভাবে চেনে, যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। নিশ্চয়ই তাদের একটি দল জেনে-শুনে সত্যকে গোপন করে।
সত্য সেটাই যা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে আসে। অতএব তুমি অবশ্যই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ক্বিবলা, যেদিকে সে ইবাদতকালে মুখ ফিরায়। কাজেই তোমরা সৎকর্ম সমূহে প্রতিযোগিতা কর। যেখানেই তোমরা থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আর যেখান থেকেই তুমি বের হও, (ছালাতের সময়) নিজের চেহারাকে মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও। আর এটাই হ’ল তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে নিশ্চিত সত্য। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন।
আর যেখান থেকেই তুমি বের হও, (ছালাতের সময়) নিজের চেহারাকে মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও। আর যেখানেই তোমরা থাক, তোমাদের চেহারা সমূহ ঐদিকে ফিরাও। যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে লোকদের কোন অজুহাত পেশ করার সুযোগ না থাকে। তবে তাদের মধ্যে যারা যালেম তারা ব্যতীত। অতএব তুমি তাদের ভয় করো না, আমাকে ভয় কর। যাতে আমি তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করে দিতে পারি এবং যাতে তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হ’তে পার।
যেমন আমরা তোমাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনান। যিনি তোমাদের পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দেন। আর তোমাদের এমনসব বিষয় শিক্ষা দেন, যা তোমরা জানতে না।
অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।
আর যারা আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না।
অবশ্যই আমরা তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল, জান ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা। আর তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।
যাদের উপর কোন বিপদ আসলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ্র জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তার দিকেই ফিরে যাব।
তাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে রয়েছে অফুরন্ত দয়া ও করুণা এবং তারাই হ’ল সুপথপ্রাপ্ত।
নিশ্চয়ই ছাফা ও মারওয়া আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের অন্যতম। অতএব যারা কা‘বা গৃহে হজ্জ অথবা ওমরাহ করে, তাদের জন্য এ দু’টি প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। আর যদি কেউ স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কিছু নেকীর কাজ করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সুবিজ্ঞ।
আমরা এই কিতাবে মানবজাতির জন্য স্পষ্ট বিধান ও পথনির্দেশ সমূহ বিশদভাবে নাযিল করার পরও যারা সেগুলিকে গোপন করে, তাদেরকে লা‘নত করেন আল্লাহ ও লা‘নত করেন সকল লা‘নতকারীগণ।
তবে যারা তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে এবং সত্য প্রকাশ করে দেয়, আমি তাদের তওবা কবুল করব। আর আমিই সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও দয়ালু।
নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাদের উপর রয়েছে আল্লাহ্র লা‘নত এবং ফেরেশতামন্ডলী ও সমগ্র মানবজাতির লা‘নত।
তারা চিরকাল তার মধ্যেই থাকবে। তাদের থেকে শাস্তি হালকা করা হবে না এবং তাদের কোনরূপ অবকাশ দেওয়া হবে না।
আর তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। কোন উপাস্য নেই তিনি ব্যতীত। তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টিতে, রাত্রি ও দিবসের আগমন-নির্গমনে এবং নৌযান সমূহে যা সাগরে চলাচল করে, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং বৃষ্টির মধ্যে, যা আল্লাহ আকাশ থেকে বর্ষণ করেন। অতঃপর তার মাধ্যমে মৃত যমীনকে পুনর্জীবিত করেন ও সেখানে সকল প্রকার জীব-জন্তুর বিস্তার ঘটান এবং বায়ু প্রবাহের গতি পরিবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালার মধ্যে অবশ্যই জ্ঞানী সমাজের জন্য আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহ রয়েছে।
আর লোকদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা অন্যকে আল্লাহ্র সমকক্ষ সাব্যস্ত করে। তারা তাদেরকে ভালোবাসে আল্লাহকে ভালোবাসার ন্যায়। কিন্তু যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহ্র ভালবাসায় সর্বাধিক দৃঢ়। আর যালেমরা যদি কোন আযাব দেখে বুঝে নিত যে, সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহ্র হাতে এবং আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা (তাহ’লে তাদের জন্য ভাল হ’ত)।
(স্মরণ কর) যেদিন অনুসৃতগণ তাদের অনুসারীদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে এবং তারা শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে ও তাদের সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।
আর অনুসারীরা বলবে, যদি আমাদের (দুনিয়াতে) ফিরে যাওয়ার সুযোগ হ’ত, তাহ’লে আমরা তাদের থেকে পৃথক হয়ে যেতাম, যেভাবে (আজ) তারা আমাদের থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্ম সমূহকে তাদের জন্য আক্ষেপ হিসাবে দেখাবেন। আর তারা কখনোই জাহান্নাম থেকে বের হ’তে পারবে না।
হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্ত্ত ভক্ষণ কর। আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
সে তো কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের এবং আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা যা জানোনা এমন বিষয়ে তোমাদের বলার নির্দেশ দেয়।
যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার উপরে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জ্ঞান রাখতো না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না।
আর অবিশ্বাসীদের উপমা ঐ রাখালের মত, যে ডাকে এমন জীবকে যে কেবল হাঁক-ডাক ছাড়া কিছু শোনেনা। সেইরূপ এরা হ’ল বধির, বোবা ও অন্ধ। ফলে ওরা কিছুই বুঝতে পারে না।
হে বিশ্বাসীগণ! আমরা তোমাদের যে রূযী প্রদান করেছি, সেখান থেকে পবিত্র বস্ত্ত সমূহ ভক্ষণ কর। আর আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই দাসত্ব করে থাক।
তিনি তোমাদের উপর নিষিদ্ধ করেছেন মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শূকর মাংস এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গীত প্রাণী। তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয় এবং বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য তা ভক্ষণে কোন পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
নিশ্চয়ই যারা কিতাবের কিছু অংশ গোপন করে, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং তার বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করে, তারা তাদের পেটে আগুন ব্যতীত কিছুই ভক্ষণ করে না। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
এইসব লোকেরা হেদায়াতের বদলে গোমরাহীকে এবং ক্ষমার বদলে শাস্তিকে খরীদ করেছে। ফলে ওরা আগুনের উপর টিকে থাকায় কতই না দুঃসাহসী!
এ শাস্তি এজন্য যে, আল্লাহ কিতাব নাযিল করেছেন সত্য সহকারে। কিন্তু যারা উক্ত কিতাবের বিষয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই দূরতম হঠকারিতার মধ্যে রয়েছে।
(ছালাতে) পূর্বে ও পশ্চিমে মুখ ফেরানোটাই কেবল সৎকর্ম নয়, বরং প্রকৃত সৎকর্মশীল ঐ ব্যক্তি, যে বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহ্র উপর, ক্বিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাগণের উপর, আল্লাহ্র কিতাব সমূহের ও নবীগণের উপর এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ্র মহববতে সম্পদ ব্যয় করে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে, ইয়াতীমদের মধ্যে, মিসকীন, মুসাফির ও প্রার্থীদের মধ্যে এবং দাসমুক্তির জন্য। আর যে ব্যক্তি ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করে, অভাবে, রোগ-পীড়ায় ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যশীল থাকে। তারাই হ’ল (তাদের ঈমানে) সত্যবাদী এবং তারাই হ’ল আল্লাহভীরু।
হে বিশ্বাসীগণ! নিহতদের বদলা গ্রহণের বিষয়টি তোমাদের উপর বিধিবদ্ধ করা হ’ল। স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস ও নারীর বদলে নারী। এক্ষণে যদি তার (নিহত) ভাইয়ের পক্ষ হ’তে তাকে কিছু মাফ করা হয়, তবে তাকে যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে তাগাদা করা হয় এবং সঙ্গতভাবে সেটি পরিশোধ করা হয়। এটি তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে লঘু বিধান ও বিশেষ অনুগ্রহ। অতঃপর যদি কেউ এর পরে সীমালংঘন করে, তবে তার জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
আর হে জ্ঞানীগণ! হত্যার বদলে হত্যার মধ্যে তোমাদের জীবন নিহিত রয়েছে, যাতে তোমরা সতর্ক হও।
তোমাদের কারু যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন যদি সে কিছু ধন-সম্পদ ছেড়ে যায়, তবে তার জন্য অছিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হ’ল, তার পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়ানুগভাবে। এটি আল্লাহভীরুদের জন্য আবশ্যিক বিষয়।
অতঃপর যদি কেউ অছিয়ত শোনার পর তা পরিবর্তন করে, তাহ’লে তার পাপ তাদের উপরেই বর্তাবে, যারা তা পরিবর্তন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
আর যদি কেউ অছিয়তকারীর পক্ষ হ’তে পক্ষপাতিত্বের বা পাপের আশংকা করে, অতঃপর সে ওয়ারিছদের মধ্যে আপোষ মীমাংসা করে দেয়, তবে তার উপর কোন পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হ’ল, যেমন তা ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ’তে পার।
গণিত কয়েকটা দিন মাত্র। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পীড়িত হয় অথবা সফরে থাকে, সে যেন এটি অন্য সময় পালন করে। আর যাদের জন্য এটি খুব কষ্টকর হয়, তারা যেন প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন করে মিসকীনকে খাদ্য দান করে। যদি কেউ স্বেচ্ছায় বেশী দেয়, সেটা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর যদি তোমরা ছিয়াম রাখ, তবে সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।
রামাযান হ’ল সেই মাস, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে। যা মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক ও সুপথের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসের ছিয়াম রাখে। তবে যে ব্যক্তি পীড়িত হবে অথবা সফরে থাকবে, সে এটি অন্য সময় গণনা করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, কঠিন চান না। যাতে তোমরা (এক মাসের) নির্ধারিত গণনা পূর্ণ করতে পার। আর যাতে তোমরা তোমাদের সুপথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ্র বড়ত্ব ঘোষণা করতে পার এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পার।
আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে, (তখন তাদের বল যে,) আমি নিকটেই আছি। আমি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেই যখনই সে আমাকে আহবান করে। অতএব তারা যেন আমাকে ডাকে এবং আমার উপরে বিশ্বাস রাখে, যাতে তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়।
ছিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রীগমন সিদ্ধ করা হ’ল। তারা তোমাদের পোষাক এবং তোমরা তাদের পোষাক। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা খেয়ানত করেছ। তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের মার্জনা করেছেন। অতএব এখন তোমরা স্ত্রীগমন কর এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা সন্ধান কর। আর তোমরা খানাপিনা কর যতক্ষণ না রাত্রির কালো রেখা থেকে ফজরের শুভ্র রেখা তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়। অতঃপর ছিয়াম পূর্ণ কর রাত্রির আগমন পর্যন্ত। আর তোমরা স্ত্রীগমন করো না যখন তোমরা মসজিদে ই‘তিকাফ রত থাক। এটাই আল্লাহ্র সীমারেখা। অতএব তোমরা এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ স্বীয় আয়াত সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন মানুষের কল্যাণের জন্য, যাতে তারা সংযত হয়।
আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ করো না এবং অন্যের সম্পদ অন্যায় পন্থায় গ্রাস করার জন্য জেনে-শুনে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না।
লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদ সমূহের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে। বলে দাও যে, এগুলি লোকদের জন্য এবং হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক। আর পিছন দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ করায় কোন কল্যাণ নেই। নিশ্চয় কল্যাণ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহকে ভয় করে। তোমরা গৃহে প্রবেশ কর সম্মুখ দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
আর তোমরা যুদ্ধ কর আল্লাহ্র পথে তাদের বিরুদ্ধে, যারা যুদ্ধ করে তোমাদের বিরুদ্ধে এবং এতে বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের ভালবাসেন না।
তোমরা তাদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর। আর যেখান থেকে তারা তোমাদের বের করে দিয়েছিল, সেখান থেকে তোমরা তাদের বের করে দাও। বস্ত্তত ফিৎনা সৃষ্টি করা হত্যাকান্ডের চেয়েও গুরুতর অপরাধ। আর তাদের সাথে মাসজিদুল হারামের নিকটে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। যদি তারা তোমাদের হত্যা করে, তাহ’লে তোমরাও তাদের হত্যা কর। এরূপই হয়ে থাকে কাফেরদের প্রতিফল।
অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তাহ’লে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না ফিৎনার (কুফরীর) অবসান হয় এবং আনুগত্য স্রেফ আল্লাহ্র জন্য হয়ে যায়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত্ত হয়, তবে যালেমদের ব্যতীত অন্যদের প্রতি কোন প্রতিশোধ নেই।
নিষিদ্ধ মাসের পরিবর্তে নিষিদ্ধ মাস। আর নিষিদ্ধ মাস সমূহের বদলা রয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি তোমাদের উপর বাড়াবাড়ি করে, তোমরাও তার উপর বাড়াবাড়ি কর যতটুকু সে তোমাদের উপর বাড়াবাড়ি করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। জেনে রেখ আল্লাহ মুত্তাক্বীদের সঙ্গে থাকেন।
আর তোমরা আল্লাহ্র পথে ব্যয় কর এবং নিজেদেরকে ধবংসে নিক্ষেপ করো না। তোমরা সদাচরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচরণকারীদের ভালবাসেন।
আর তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ কর। কিন্তু যদি তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হও, তাহ’লে যা সহজলভ্য হয়, তাই কুরবানী কর। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করোনা যতক্ষণ না কুরবানীর পশু তার যবহের স্থানে পৌঁছে যায়। তবে তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় বা তার মাথায় কোন কষ্ট থাকে (এবং সেজন্য মাথা মুন্ডন করে ফেলে), তাহ’লে সে ফিদ্ইয়া হিসাবে ছিয়াম পালন করবে অথবা ছাদাক্বা করবে অথবা কুরবানী করবে। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ওমরাহ্র সঙ্গে হজ্জ পালন করতে চায়, সে যেন কুরবানী করে যা সহজলভ্য হয়। তবে কেউ যদি কুরবানী না পায়, তাহ’লে সে হজ্জের দিনগুলির মধ্যে তিনটি এবং বাড়ীতে ফিরে গিয়ে সাতটি ছিয়াম পালন করবে। এভাবে দশটি পূর্ণ হবে। এ নির্দেশ তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদুল হারামের আশ-পাশে (মীক্বাতের মধ্যে) বসবাস করে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
হজ্জের মাসগুলি নির্ধারিত। অতএব যে ব্যক্তি ঐ মাস গুলিতে হজ্জ-এর সংকল্প করবে (অর্থাৎ ইহরাম বাঁধবে), তার জন্য হজ্জের সময় স্ত্রী মিলন, পাপকর্ম ও ঝগড়া বিধেয় নয়। তোমরা যেসব সৎকর্ম কর, আল্লাহ তা অবগত আছেন। আর তোমরা পাথেয় সঙ্গে নাও। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হ’ল আল্লাহভীতি। অতএব হে জ্ঞানীগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।
(হজ্জের মওসুমে) তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ সন্ধান করায় (অর্থাৎ ব্যবসা করায়) তোমাদের কোন পাপ নেই। আর যখন তোমরা আরাফা থেকে (মিনায়) ফিরবে, তখন (মুযদালেফায়) মাশ‘আরুল হারামে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তোমরা তাঁকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও তোমরা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
অতঃপর তোমরা (আরাফা থেকে) ফিরে এসো, যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করবে, তখন তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর যেভাবে তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের স্মরণ কর, বরং তার চাইতেও বেশী। অতঃপর লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ইহকালে দাও। তার জন্য পরকালে কিছুই পাওয়ার নেই।
আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের ইহকালে কল্যাণ দাও ও পরকালে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও!
ঐসব লোকদের কৃতকর্মের জন্য পুণ্যফল রয়েছে। বস্ত্তত আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
আর তোমরা (মিনার) গণিত দিনগুলিতে আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যে ব্যক্তি ব্যস্ততা বশে দু’দিনেই (মক্কায়) ফিরে আসে, তার কোন পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি দেরী করে, তারও কোন পাপ নেই যে সংযত থাকে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। জেনে রেখ তোমাদের সবাইকে তার নিকটে একত্রিত করা হবে।
লোকদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার দুনিয়াবী কথা-বার্তা তোমাকে মুগ্ধ করে এবং তার অন্তরের কথাগুলির উপর সে আল্লাহকে সাক্ষী করে। অথচ (সত্যের বিরুদ্ধে) সে অতীব ঝগড়াটে।
আর যখন সে ক্ষমতাসীন হয়, তখন সে জনপদে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্য ও মানব বংশ ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। অথচ আল্লাহ অশান্তি পসন্দ করেন না।
যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার প্রতিপত্তির অহমিকা তাকে পাপে স্ফীত করে। অতএব তার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট। আর নিশ্চয়ই সেটা কতই না নিকৃষ্ট ঠিকানা!
আর লোকদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে। বস্ত্তত আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা পূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
আর যদি তোমরা তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে যাওয়ার পরেও পদস্খলিত হও, তাহ’লে জেনে রেখ যে, আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
তারা কি কেবল এ অপেক্ষাই করছে যে, আল্লাহ শ্বেত-শুভ্র মেঘপুঞ্জের ছায়াতলে ফেরেশতাদের নিয়ে তাদের নিকট আগমন করবেন ও তাদের সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হবে? বস্ত্তত আল্লাহ্র দিকেই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।
তুমি ইস্রাঈল সন্তানদের জিজ্ঞেস কর, কত স্পষ্ট নিদর্শনই না আমরা তাদেরকে প্রদান করেছিলাম। কিন্তু যে তার নিকট আল্লাহ্র অনুগ্রহ আসার পরেও তা বদলে ফেলে, সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ কঠিন বদলা গ্রহণকারী।
অবিশ্বাসীদের জন্য পার্থিব জীবনকে শোভনীয় করা হয়েছে। আর তারা বিশ্বাসীদের উপহাস করে। অথচ ক্বিয়ামতের দিন বিশ্বাসীরা অবিশ্বাসীদের উপরে থাকবে। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে বেহিসাব রিযিক দান করে থাকেন।
মানবজাতি একই দলভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে প্রেরণ করেন জান্নাতের সুসংবাদ দানকারী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী রূপে। আর তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করেন, যাতে তার মাধ্যমে তারা লোকদের বিবাদীয় বিষয় সমূহ ফায়ছালা করে দেয়। অথচ যারা কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছিল, তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসে যাওয়ার পরেও তারা পরস্পরে হঠকারিতাবশে তাদের কিতাবে মতভেদ করল। অতঃপর আল্লাহ স্বীয় নির্দেশক্রমে ঈমানদারগণকে তাদের বিবাদীয় বিষয়সমূহে সত্যের পথ প্রদর্শন করলেন। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে চান তাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
তোমরা কি ধারণা করেছ যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের উপর এখনও তাদের মত অবস্থা আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে। নানাবিধ বিপদ ও দুঃখ-কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেছিল ও তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল। অবশেষে রাসূল ও তার সাথী মুমিনগণ বলতে বাধ্য হয়েছিল, কখন আল্লাহ্র সাহায্য আসবে? জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ্র সাহায্য অতীব নিকটবর্তী।
লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কি ব্যয় করবে? বলে দাও যে, তোমরা সম্পদ হ’তে যা ব্যয় করবে, তা তোমাদের পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম-মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য। বস্ত্তত তোমরা যা কিছু সৎকর্ম কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
তোমাদের উপর জিহাদ ফরয করা হ’ল। এটি তোমাদের জন্য কষ্টকর। আর অবশ্যই তোমরা এমন বহু কিছু অপসন্দ কর, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর অবশ্যই তোমরা এমন বহু কিছু পসন্দ কর, যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।
লোকেরা তোমাকে প্রশ্ন করছে নিষিদ্ধ মাস ও তার মধ্যে যুদ্ধ করা সম্পর্কে। তুমি বল, এ মাসে যুদ্ধ করা মহাপাপ। তবে আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করা ও তাঁর সাথে কুফরী করা এবং মাসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা দেওয়া ও তার অধিবাসীদের বহিষ্কার করা আল্লাহ্র নিকটে তার চাইতে বড় পাপ। বস্ত্তত ফিৎনা করা যুদ্ধের চাইতে বড় পাপ। আর সক্ষম থাকলে তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বস্ত্তত তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বধর্ম ত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কর্ম নিষ্ফল হবে। তারা জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে ও আল্লাহ্র পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহ্র রহমত আশা করে। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
লোকেরা তোমাকে প্রশ্ন করছে মদ ও জুয়া সম্পর্কে। তুমি বল যে, এ দু’য়ের মধ্যে বড় পাপ রয়েছে এবং মানুষের জন্য কিছু উপকার রয়েছে। তবে এ দু’টির পাপ তার উপকার অপেক্ষা গুরুতর। আর তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে কি পরিমাণ ব্যয় করবে? তুমি বল, উদ্বৃত্ত থেকে। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-গবেষণা করতে পার-
দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে ইয়াতীমদের সম্পর্কে। তুমি বল, তাদের কল্যাণ সাধনই উত্তম। যদি তোমরা তাদেরকে তোমাদের (পরিবারের) সাথে মিলিয়ে নাও, তবে তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী ও কে কল্যাণকারী। আর আল্লাহ চাইলে তোমাদের কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। (মনে রেখ) মুমিন ক্রীতদাসী মুশরিক স্বাধীনার চাইতে উত্তম। যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর তোমরা মুশরিক পুরুষদের বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। (মনে রেখ) মুমিন ক্রীতদাস মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চাইতে উত্তম। যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। ওরা জাহান্নামের দিকে আহবান করে। আর আল্লাহ জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন স্বীয় আদেশক্রমে। তিনি মানবজাতির জন্য স্বীয় আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আর লোকেরা তোমাকে প্রশ্ন করছে মহিলাদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে। তুমি বল, ওটা কষ্টদায়ক বস্ত্ত। অতএব ঋতুকালে তোমরা স্ত্রীমিলন হ’তে বিরত থাক। তাদের নিকটবর্তী হয়োনা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর যখন তারা ভালভাবে পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের নিকট গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।
তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত স্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেতে যেভাবে চাও গমন কর। আর তোমাদের জন্য অগ্রিম কল্যাণ প্রেরণ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর। জেনে রেখ তোমরা সবাই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর তুমি বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও।
তোমরা তোমাদের শপথসমূহের জন্য আল্লাহকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করোনা এজন্য যে, তোমরা সৎকর্ম করবেনা, আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করবেনা বা লোকদের মাঝে মীমাংসা করবেনা। (জেনে রেখ) আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
অনর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না। তবে ঐসব শপথের জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন, যা তোমরা মনের সংকল্প অনুযায়ী করে থাক। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও সহনশীল।
যারা স্ত্রীগমন হ’তে বিরত থাকার শপথ করে, তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ রয়েছে। যদি এর মধ্যে তারা ফিরে আসে, তাহ’লে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর যদি (এর মাধ্যমে) তারা তালাক দানে সংকল্পবদ্ধ হয়, তাহ’লে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আর (সহবাসকৃত) তালাকপ্রাপ্তাগণ তিন ঋতু পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আল্লাহ তাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা তাদের জন্য সিদ্ধ হবেনা, যদি তারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হয়। আর যদি তারা পরস্পরে মীমাংসা চায়, তবে তাদের স্বামীরাই তাদের ফিরিয়ে নেবার অধিক হকদার। আর স্বামীদের উপর স্ত্রীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে এবং স্ত্রীদের উপর স্বামীদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। বস্ত্তত আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
তালাক হ’ল দু’বার। অতঃপর সে তাকে ন্যায়ানুগভাবে রেখে দিবে অথবা সদাচরণের সাথে পরিত্যাগ করবে। আর তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু ফেরৎ নেওয়া তোমাদের জন্য বৈধ হবেনা। তবে যদি তারা আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা ঠিক রাখতে পারবেনা বলে আশংকা করে। এক্ষণে যদি তোমরা ভয় কর যে তারা আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা ঠিক রাখতে পারবেনা, তাহ’লে স্ত্রী যদি কিছু বিনিময় দিয়ে মুক্তি (খোলা) চায়, তবে তা গ্রহণে উভয়ের কোন দোষ নেই। এটাই আল্লাহ্র সীমারেখা। অতএব তোমরা তা অতিক্রম করোনা। বস্ত্তত যারা আল্লাহ্র সীমারেখা অতিক্রম করে, তারা হ’ল সীমালংঘনকারী।
অতঃপর যদি সে তার স্ত্রীকে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তাহ’লে সে যতক্ষণ তাকে ব্যতীত অন্য স্বামী গ্রহণ না করে, ততক্ষণ উক্ত স্ত্রী তার জন্য হালাল হবেনা। অতঃপর যদি পরের স্বামী তাকে তালাক দেয়, তখন পূর্বের স্বামীর নিকট পুনরায় ফিরে আসায় তার কোন দোষ নেই, যদি তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, তারা আল্লাহ্র সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে। এগুলি আল্লাহ্র সীমারেখা। যা তিনি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য ব্যাখ্যা করে দিচ্ছেন।
আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও। অতঃপর তারা তাদের ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখন তোমরা তাদেরকে (রাজ‘আত করে) ন্যায়ানুগভাবে রাখতে পার অথবা ন্যায়ানুগভাবে পরিত্যাগ করতে পার। তাদেরকে তোমরা ক্ষতি করার জন্য আটকে রেখ না, তাহ’লে তোমরা সীমালংঘন করবে। যে ব্যক্তি এটা করবে, সে তার নিজের উপর যুলুম করবে। তোমরা আল্লাহ্র আয়াতসমূহকে তাচ্ছিল্যভরে গ্রহণ করো না। আর তোমাদের উপর তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন এবং তোমাদের উপর তিনি যে কিতাব ও সুন্নাহ নাযিল করেছেন, তা স্মরণ কর। তিনি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে সাবধান করছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহ সকল বিষয় অবগত।
আর যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের (রাজ‘ঈ) তালাক দাও। অতঃপর তাদের ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তখন স্ত্রীরা তাদের (তালাকদাতা) স্বামীদের বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিয়োনা যদি তারা উভয়ে ন্যায়ানুগভাবে পরস্পরে সম্মত হয়। উক্ত উপদেশ দেওয়া হ’ল তাদেরকে, যারা তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে। এটাই তোমাদের জন্য বিশুদ্ধতম ও পবিত্রতম ব্যবস্থা। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছু জানেন, আর তোমরা জানোনা।
জন্মদাত্রী মাতাগণ তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, যদি তারা দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। আর জন্মদাতা পিতার দায়িত্ব হ’ল ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রসূতি মায়েদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। সাধ্যের অতিরিক্ত কাউকে বাধ্য করা যাবে না। আর সন্তানের কারণে প্রসূতি মাকে এবং জন্মদাতা পিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। উত্তরাধিকারীদের প্রতিও একই বিধান। তবে যদি পিতা-মাতা পরস্পরে সম্মতি ও পরামর্শের ভিত্তিতে বাচ্চার দুধ ছাড়াতে চায়, তাহ’লে তাদের উপর কোন দোষ বর্তাবে না। আর যদি তোমরা অন্যের কাছে তোমাদের সন্তানদের দুধপান করাতে চাও, তাহ’লে তাকে সমর্পণের সময় ন্যায়সঙ্গতভাবে কিছু প্রদান করায় কোন দোষ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।
আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে ও বিধবা স্ত্রীদের ছেড়ে যাবে, ঐ স্ত্রীগণ চার মাস দশদিন অপেক্ষা করবে (অর্থাৎ ইদ্দত পালন করবে)। অতঃপর যখন তারা মেয়াদ পূর্ণ করবে, তখন তারা নিজেদের বিষয়ে ন্যায়ানুগভাবে যা করবে, তাতে তোমাদের কোন দায়িত্ব নেই। বস্ত্তত তোমরা যা কিছু কর, সবই আল্লাহ খবর রাখেন।
আর তোমরা বিধবাদের বিবাহের উদ্দেশ্যে (তাদের ইদ্দতকালে) পরোক্ষভাবে যেসব কথা বলে থাক কিংবা নিজেদের মনে যেসব কথা লুকিয়ে রাখ, তাতে তোমাদের উপর কোন দোষ বর্তাবে না। আল্লাহ অবগত আছেন যে, তোমরা সত্বর তাদের বিষয়ে আলোচনা করবে। কিন্তু তাদের সাথে গোপনে ওয়াদাবদ্ধ হয়োনা। বরং ন্যায়ানুগভাবে তাদের সাথে কথা বল। আর ইদ্দতকাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার সংকল্প করোনা। জেনে রেখ যে, আল্লাহ তোমাদের অন্তরের খবর রাখেন। অতএব তাঁকে ভয় কর। আর জেনে রেখ যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও সহনশীল।
যদি তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করার আগেই অথবা তাদের জন্য মোহর নির্ধারণ না করেই তালাক প্রদান কর, তবে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। এসময় তোমরা স্ত্রীদের ন্যায়ানুগভাবে কিছু সম্পদ দান করবে। সম্পদশালী ব্যক্তি তার অবস্থা অনুযায়ী এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার অবস্থা অনুযায়ী। সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের উপর এটাই কর্তব্য।
আর যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে থাক এবং তাদের জন্য মোহর নির্ধারণ করে থাক, তবে তাদেরকে নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক প্রদান কর। অবশ্য যদি স্ত্রীরা মোহর মাফ করে দেয় অথবা যার হাতে বিবাহের বন্ধন সেই স্বামী যদি মার্জনা করে। তবে মার্জনা করাটাই তাক্বওয়ার অধিক নিকটবর্তী। তোমরা পরস্পরের প্রতি সদাচরণকে ভুলে যেয়োনা। নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সবই দেখেন।
তোমরা ছালাত সমূহের ব্যাপারে ও বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আছরের) ছালাতের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং আল্লাহ্র জন্য নিবিষ্টচিত্তে দন্ডায়মান হও।
তবে যদি তোমরা (শত্রুর) ভয় কর, তাহ’লে পদব্রজে বা সওয়ার অবস্থায় ছালাত আদায় কর। অতঃপর যখন নিরাপদ হবে, তখন তোমরা (পূর্ণভাবে) ছালাত আদায় কর। যেভাবে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা আগে জানতে না।
আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে ও স্ত্রীদের ছেড়ে যায়, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের বের করে না দিয়ে এক বছরের ভরণ-পোষণের অছিয়ত করে যায়। অবশ্য যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে তাদের নিজেদের ব্যাপারে ন্যায়ানুগভাবে তারা যা করে, তাতে তোমাদের কোন দায়িত্ব নেই। আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর তালাকপ্রাপ্তাদের ন্যায়ানুগভাবে কিছু সম্পদ দান করবে। এটা আল্লাহভীরুদের উপর কর্তব্য।
এভাবে আল্লাহ স্বীয় আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করে দেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার।
তুমি কি তাদের কথা শোনোনি, যারা মৃত্যুভয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, আর তারা ছিল কয়েক হাযার মানুষ। তখন আল্লাহ তাদের বললেন, তোমরা মরে যাও। অতঃপর তিনি তাদেরকে পুনর্জীবিত করলেন। বস্ত্তত আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
আর তোমরা আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধ কর। জেনে রেখ যে, আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
কোন্ সে ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে, অতঃপর তিনি তার বিনিময়ে তাকে বহুগুণ বেশী প্রদান করবেন? বস্ত্তত আল্লাহই রূযী সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন। আর তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
তুমি কি মূসার পরে বনু ইস্রাঈলের সেসব নেতাদের কথা শোনোনি? যখন তারা তাদের নবীকে বলেছিল, আমাদের জন্য একজন শাসক নিযুক্ত করে দিন যার নেতৃত্বে আমরা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করব। নবী তাদের বললেন, তোমাদের উপর যদি জিহাদ ফরয করে দেওয়া হয়, তাহ’লে তোমরা নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ করবে না। জবাবে তারা বলল, কেন আমরা আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করব না? অথচ আমরা আমাদের ঘর-বাড়ী ও সন্তানাদি হ’তে বহিষ্কৃত হয়েছি। অতঃপর যখন তাদের উপর জিহাদ ফরয করা হ’ল, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, অল্পসংখ্যক ব্যতীত। বস্ত্তত আল্লাহ যালেমদের বিষয়ে সম্যক অবহিত।
তখন তাদের নবী তাদের বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তালূতকে বাদশাহ নিযুক্ত করেছেন। তারা বলল, আমাদের উপর তালূতের রাজত্ব কিভাবে সঙ্গত হ’তে পারে? অথচ তার চাইতে আমরাই রাজত্ব পাওয়ার অধিক হকদার। তাছাড়া তাকে কোনরূপ আর্থিক সচ্ছলতা দেওয়া হয়নি। নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে মনোনীত করেছেন এবং জ্ঞানে ও দৈহিক শক্তিতে তাকে প্রাচুর্য দান করেছেন। আর আল্লাহ তার রাজত্ব যাকে চান তাকে দান করেন। বস্ত্তত আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
তাদের নবী তাদের বললেন, তার বাদশাহ হওয়ার নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট সেই সিন্দুকটি আসবে, যাতে থাকবে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে প্রশান্তি এবং মূসা ও হারূণ পরিবারের পরিত্যক্ত কিছু বস্ত্ত। ফেরেশতারা ওটা বহন করে আনবে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
অতঃপর যখন তালূত তার সৈন্যদল নিয়ে বের হ’ল, তখন বলল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন। অতঃপর যে ব্যক্তি সেখান থেকে পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি পানির স্বাদ নিবেনা, সেই-ই আমার দলভুক্ত থাকবে। তবে যে মাত্র এক অঞ্জলি পান করবে, সে ব্যতীত। অতঃপর অল্প সংখ্যক ছাড়া তারা সবাই সেখান থেকে (পেট ভরে) পানি পান করল। অতঃপর যখন সে (তালূত) ও তার সাথী ঈমানদাররা নদী পার হয়ে গেল, তখন তারা বলল, জালূত ও তার সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করার মত শক্তি আজ আমাদের নেই। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা দৃঢ়বিশ্বাস পোষণ করত যে, তারা আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে তারা বলল, কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাজিত করেছে আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে! বস্ত্তত আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।
অতঃপর যখন তারা জালূত ও তার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হ’ল, তখন তারা প্রার্থনা করল, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের উপর বিশেষ ধৈর্য নাযিল কর, আমাদের পা সমূহ দৃঢ় রাখ এবং অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর!
অতঃপর তারা আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে জালূতের সৈন্যদলকে পরাজিত করল এবং দাঊদ (একাই) জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং তাকে শিক্ষা দিলেন যা তিনি ইচ্ছা করলেন। বস্ত্তত আল্লাহ যদি একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহ’লে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু।
এগুলি হ’ল আল্লাহ প্রেরিত আয়াত। যা আমরা তোমার নিকট সত্য সহকারে বর্ণনা করলাম। আর নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
উক্ত রাসূলগণ, যাদেরকে আমরা পরস্পরের উপর মর্যাদা দান করেছি। তাদের কারু সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কারু মর্যাদা উচ্চতর করেছেন। আর আমরা মরিয়ম-পুত্র ঈসাকে স্পষ্ট নিদর্শন সমূহ দান করেছিলাম এবং তাকে পবিত্রাত্মা (জিব্রীল) দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম। আর আল্লাহ চাইলে নবীগণের পরবর্তী লোকেরা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে যাওয়ার পরেও পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হ’ত না। কিন্তু তারা আপোষে মতভেদ করেছিল। ফলে তাদের মধ্যে কেউ (নবীগণের প্রতি) বিশ্বাসী হ’ল, কেউ অবিশ্বাসী হ’ল। বস্ত্তত আল্লাহ চাইলে তারা পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হ’ত না। কিন্তু তিনি যা চান তাই করেন।
হে বিশ্বাসীগণ! আমরা তোমাদের যে রূযী দান করেছি তা থেকে তোমরা (আল্লাহ্র পথে) ব্যয় কর সেদিন আসার আগেই, যেদিন নেই কোন ক্রয়-বিক্রয়, নেই কোন বন্ধুত্ব, নেই কোন সুফারিশ। বস্ত্তত কাফেররাই হ’ল যালেম।
আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনরূপ তন্দ্রা বা নিদ্রা তাকে স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই তার। তার অনুমতি ব্যতীত এমন কে আছে যে তার নিকটে সুফারিশ করে? তাদের অগ্র-পশ্চাত সবই তিনি জানেন। তার জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারেনা, কেবল যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তার কুরসী নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল পরিব্যপ্ত। আর এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাকে মোটেই শ্রান্ত করেনা। তিনি সর্বোচ্চ ও মহীয়ান।
দ্বীনের ব্যাপারে কোন যবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই সুপথ ভ্রান্তপথ হ’তে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এক্ষণে যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে ও আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে এমন এক মযবুত হাতল অাঁকড়ে ধরল, যা কখনোই ভাঙ্গবার নয়। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হ’তে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর শয়তান হ’ল অবিশ্বাসীদের বন্ধু। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিয়ে যায়। ওরা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
তুমি কি শোনোনি ঐ ব্যক্তির কথা, যে ইব্রাহীমের সাথে তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল? কারণ আল্লাহ তাকে রাজত্ব দান করেছিলেন। যখন ইব্রাহীম বলল, আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তখন সে বলল, আমিও বাঁচাতে পারি ও মারতে পারি। ইব্রাহীম বলল, আল্লাহ সূর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে, তাহ’লে তুমি ওটাকে উদিত কর পশ্চিম দিক থেকে। একথায় কাফের হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। বস্ত্তত আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
অথবা তুমি কি শোনোনি ঐ ব্যক্তির কথা, যে এমন একটি জনপদ দিয়ে অতিক্রম করছিল, যার ঘর-বাড়ীর ছাদ সমূহ ভিতের উপর মুখ থুবড়ে পড়েছিল। লোকটি বলল, আল্লাহ কিভাবে এই জনপদকে মৃত্যুর পরে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে একশ’ বছরের জন্য মৃত্যু দান করলেন। অতঃপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। তিনি তাকে বললেন, কতদিন কাটালে? সে বলল, একদিন বা তার কিছু অংশ। তিনি বললেন, বরং তুমি একশ’ বছর অতিবাহিত করেছ। তুমি তাকিয়ে দেখ তোমার খাদ্য ও পানীয়ের দিকে, সেগুলো বিনষ্ট হয়নি এবং দেখ তোমার গাধাটির দিকে। আর যেহেতু আমরা তোমাকে মানুষের জন্য নিদর্শন করতে চাই, তাই আরও দেখ হাড্ডিগুলির দিকে, কিভাবে আমরা ওগুলিকে জীবন্ত করি। অতঃপর সেগুলিতে গোশতের আবরণ পরিয়ে দেই। এভাবে যখন সবকিছু তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, আমি জানি, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আর স্মরণ কর যখন ইব্রাহীম বলেছিল হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? সে বলল, করি। তবে কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য। তখন তিনি বললেন, বেশ তাহ’লে তুমি চারটা পাখি ধর। অতঃপর সেগুলিকে তোমার পোষ মানাও। তারপর (সেগুলি যবহ করে) দেহের একেক অংশ একেক পাহাড়ের উপর রেখে এসো। তারপর সেগুলোকে ডাক দাও। দেখবে তারা তোমার নিকটে দৌড়ে চলে আসবে। জেনে রেখ, আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
যারা আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি শস্য বীজের ন্যায়। যা থেকে সাতটি শিষ জন্ম নেয়। প্রতিটি শিষে একশ’টি দানা হয়। আর আল্লাহ যাকে চান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। বস্ত্তত আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
যারা আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর সেজন্য পরে কোন খোটা দেয় না বা কষ্ট দেয় না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে অঢেল পুরস্কার। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
সদালাপ ও ক্ষমা ঐ দান অপেক্ষা উত্তম, যার পিছনে কষ্ট দেওয়া হয়। বস্ত্তত আল্লাহ অভাবমুক্ত ও সহনশীল।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানগুলিকে বিনষ্ট করোনা। সেই ব্যক্তির মত, যে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য এবং সে আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করেনা। ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ প্রস্তরখন্ডের মত, যার উপরে কিছু মাটি ছিল। অতঃপর সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হ’ল ও তাকে ধুয়ে ছাফ করে রেখে গেল। এভাবে তারা যা উপার্জন করে, তা থেকে কোনই সুফল তারা পায় না। বস্ত্তত আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
আর যারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ ও ছওয়াব লাভের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে, তাদের উদাহরণ সমভূমির ঐ বাগিচার মত, যেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হ’লে দ্বিগুণ শস্য উৎপন্ন হয়। আর প্রবল বৃষ্টি না হ’লে হাল্কা বৃষ্টিই যথেষ্ট হয়। বস্ত্তত তোমরা যা কর, সবই আল্লাহ দেখেন।
তোমাদের কেউ কি এটা পসন্দ করে যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুর বাগান থাকবে। যার নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। যে বাগানে সব ধরনের ফল-ফলাদি থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হবে এবং তার দুর্বল সন্তানাদি রয়েছে। এমতাবস্থায় তার বাগানে অগ্নিঝড় আঘাত হানলো, যাতে সবকিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেল? এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শন সমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন কর এবং যা আমরা তোমাদের জন্য ভূমিতে উৎপন্ন করি, সেখান থেকে উৎকৃষ্ট বস্ত্ত ব্যয় কর। আর সেখান থেকে নিকৃষ্ট বস্ত্ত ব্যয় করার সংকল্প করো না, যা তোমরা অন্যের কাছ থেকে নিতে চাওনা চোখ বন্ধ করা ব্যতীত। জেনে রেখ আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।
শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় ও অশ্লীল কর্মের নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও দয়ার ওয়াদা প্রদান করেন। বস্ত্তত আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে উক্ত প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়। বস্ত্তত জ্ঞানী লোকেরা ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।
তোমরা যা কিছু ব্যয় কর এবং যা কিছু মানত কর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন। (মনে রেখ) সীমালংঘনকারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা কতই না উত্তম! আর যদি তা গোপনে কর ও অভাবীদের প্রদান কর, তবে তোমাদের জন্য সেটাই উত্তম। (এর দ্বারা) তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করে দিবেন। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তা খবর রাখেন।
তাদেরকে হেদায়াত করার দায়িত্ব তোমার নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়াত দান করেন। আর তোমরা ধন-সম্পদ হ’তে যা ব্যয় কর, তা তোমরা নিজেদের জন্যেই করে থাক। অধিকন্তু তোমরা তো আল্লাহ্র চেহারা অন্বেষণ ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। বস্ত্তত উত্তম সম্পদ হ’তে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পুরস্কার তোমরা পুরাপুরি পেয়ে যাবে। তোমাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।
তোমরা ব্যয় কর ঐসব অভাবীদের জন্য, যারা আল্লাহ্র পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে, যারা ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণে সক্ষম নয়। না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদের চেহারা দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে চায় না। আর যা কিছু তোমরা উত্তম সম্পদ হ’তে ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
যারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে, তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকটে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
যারা সূদ খায়, তারা (ক্বিয়ামতের দিন) দাঁড়াতে পারবে না শয়তানের স্পর্শে মোহাবিষ্ট ব্যক্তির ন্যায় ব্যতীত। কারণ তারা বলে ব্যবসা তো সূদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন ও সূদকে হারাম করেছেন। অতঃপর যার নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে উপদেশ এসে গেছে, অতঃপর সে বিরত হয়েছে, তার জন্য পিছনের সব লেনদেন মাফ। তার (তওবা কবুলের) বিষয়টি আল্লাহ্র উপর ন্যস্ত। কিন্তু যারা পুনরায় সূদ খাবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।
আল্লাহ সূদকে নিঃশেষ করেন ও ছাদাক্বায় প্রবৃদ্ধি দান করেন। বস্ত্তত আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না।
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, ছালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের বকেয়া পাওনা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।
অতঃপর যদি তোমরা তা না কর, তাহ’লে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যাও। আর যদি তোমরা তওবা কর, তাহ’লে তোমরা তোমাদের মূলধনটুকু পাবে। তোমরা অত্যাচার করো না এবং অত্যাচারিত হয়ো না।
তবে যদি ঋণ গ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তাহ’লে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি তোমরা ওটা দান করে দাও (অর্থাৎ তাকে মাফ করে দাও), তবে সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম হবে যদি তোমরা বুঝ।
আর তোমরা ঐ দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা আল্লাহ্র নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্মফল পুরোপুরি পাবে এবং তারা অত্যাচারিত হবে না।
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যেকার কোন লেখক যেন তা ন্যায়সঙ্গতভাবে লিপিবদ্ধ করে। আর লেখক যেন লিখতে অস্বীকার না করে। যেরূপ আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব সে যেন লিখে দেয়। আর যার উপর দায়িত্ব সে (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা) যেন লেখার বিষয়বস্ত্তগুলো বলে দেয়। এ সময় যেন সে তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে এবং বলার মধ্যে কোন কম-বেশী না করে (অর্থাৎ সত্য না লুকায়)। আর যার উপর দায়িত্ব সে যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্ত্ত বলে দিতে সক্ষম না হয়, তবে তার কোন অভিভাবক সেটা ন্যায়সঙ্গতভাবে বলে লিখিয়ে দিবে। এ ব্যাপারে তোমরা তোমাদের মধ্যেকার দু’জন পুরুষকে সাক্ষী রাখবে। যদি দু’জন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দু’জন নারী, যাদেরকে তোমরা পসন্দ কর সাক্ষীদের মধ্যে। যাতে একজন ভুলে গেলে অন্যজন তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর সাক্ষীরা যেন সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার না করে, যখন তাদেরকে ডাকা হয়। আর ঋণ ক্ষুদ্র হৌক বা বড় হৌক, মেয়াদ পর্যন্ত ঋণচুক্তি লিখতে তোমরা অবহেলা করো না। এটাই আল্লাহ্র নিকট অধিক ন্যায়পূর্ণ ও সাক্ষ্যের ব্যাপারে অধিক নিরাপদ এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। কিন্তু যদি নগদ ব্যবসা হয়, যা তোমরা পরস্পরে লেনদেন করে থাক, তবে তা না লেখায় তোমাদের কোন দোষ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়কালে সাক্ষী রাখ। আর লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। যদি তা কর, তাহ’লে সেটা তোমাদের জন্য পাপ হবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদেরকে (বিধান সমূহ) শিক্ষা দিচ্ছেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত।
আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তবে কিছু বন্ধকী বস্ত্ত হস্তগত রাখ। আর যদি তোমরা পরস্পরকে বিশ্বাস কর, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে, তার উচিৎ আমানত (যথাযথভাবে) পরিশোধ করা এবং (এ ব্যাপারে) সে যেন তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার হৃদয় পাপিষ্ঠ। বস্ত্তত তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্র। আর তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে, তা তোমরা প্রকাশ কর বা গোপন কর, তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহ তার হিসাব নিবেন। অতঃপর তিনি যাকে চান ক্ষমা করবেন ও যাকে চান শাস্তি দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐসকল বিষয়ে যা তার পালনকর্তার পক্ষ হ’তে তার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং মুমিনগণও। তারা সকলেই বিশ্বাস পোষণ করে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর প্রেরিত কিতাব সমূহের উপর এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম। আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই হে আমাদের প্রতিপালক! আর তোমার নিকটেই তো আমাদের প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে বাধ্য করেন না। তার জন্য পুণ্যফল সেটাই, যা সে উপার্জন করে এবং তার উপর পাপের ফল সেটাই, যা সে অর্জন করে। (তারা বলে,) হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা অজ্ঞতাবশে ভুল করি, সেজন্য আমাদের পাকড়াও করোনা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেরূপ গুরুভার অর্পণ করেছিলে, তদ্রুপ গুরুভার আমাদের উপর অর্পণ করোনা। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ো না, যা বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই। তুমি আমাদের পাপ মোচন কর! আমাদের ক্ষমা কর! আমাদের প্রতি দয়া কর! তুমি আমাদের অভিভাবক! অতএব তুমি আমাদেরকে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য কর!!